জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর উত্তরবঙ্গের ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। এটি মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মহেন্দ্রগঞ্জের সাথে যুক্ত। এই বন্দরটি বর্তমানে নানা জটিলতায় আগের মতো সচল নেই, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বেশ প্রভাব ফেলছে।
কামালপুর স্থলবন্দর দিয়ে মূলত ভারত থেকে পাথর ও কয়লা আমদানি করা হতো। এছাড়া এই রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস পণ্য, প্লাস্টিক সামগ্রী এবং খাদ্যদ্রব্য রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি চালু থাকলে স্থানীয় কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়। পরিবহন ব্যবসায়ীদের আয় বৃদ্ধি পায়।নির্মাণ সামগ্রীর (বিশেষ করে পাথর) দাম হাতের নাগালে থাকে। বর্তমানে এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়া বা বন্ধ থাকার পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ লক্ষ্য করা যায় ।
ভারতের কোয়ারি জটিলতা: মেঘালয় প্রান্তে পাথর এবং কয়লা উত্তোলনের ওপর ভারতের পরিবেশ আদালতের বিভিন্ন সময় দেয়া নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি এই বাণিজ্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অবকাঠামোগত অভাব: যদিও এটিকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় ইয়ার্ড, গোডাউন এবং আধুনিক ক্রেন বা লোডিং সুবিধার অভাব এখনও রয়ে গেছে।
শুল্কায়ন ও আইনি জটিলতা: অনেক সময় এলসি (LC) খোলা এবং কাস্টমস সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা এই রুট ব্যবহারে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন।
রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: মাঝে মাঝে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি বা প্রশাসনিক নতুন নিয়মের কারণেও কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে।
র্তমানে বন্দরটি অনেকটা নিরব থাকলেও, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকারও মাঝেমধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে থাকে। বন্দরটি নিয়মিত সচল হলে জামালপুরসহ আশেপাশের জেলাগুলোর অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।একটি বিষয় মনে রাখা ভালো: স্থলবন্দরগুলো সাধারণত সরকারি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ওপর নির্ভর করে। তাই কূটনৈতিক আলোচনা বা নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তি হলেই কেবল এটি পুনরায় আগের মতো জমজমাট হয়ে উঠতে পারে।
কামালপুর বন্দর দিয়ে মূলত 'বোল্ডার পাথর' আসত। বর্তমানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পরিবেশ আদালতের (NGT) কড়াকড়ির কারণে পাথর উত্তোলন ও পরিবহন মাঝেমধ্যে বন্ধ থাকে। এছাড়া ডলার সংকটের কারণে এলসি (LC) খুলতে সমস্যা হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আগের মতো পাথর আনতে পারছেন না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি হলো:
এখানে পূর্ণাঙ্গ শুল্ক স্টেশন (Customs Station) স্থাপন করা।
ডিজিটাল ওয়েব্রিজ বা ওজন মাপার যন্ত্র স্থাপন।
বর্ডার হাটের মতো কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা।
মতামত