ময়মনসিংহের পরানগঞ্জ অঞ্চলের শিক্ষার আলোকবর্তিকা, দক্ষ প্রশাসক এবং পরানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ খাইরুল আলম দীর্ঘ সফল কর্মজীবন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই বিদায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে আবেগঘন পরিবেশ।
উন্নয়নের এক কারিগর
জনাব খাইরুল আলম স্যারের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে পরানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এক স্বর্ণযুগ প্রত্যক্ষ করেছে। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি ছিলেন আপসহীন। কেবল ইট-পাথরের দেয়াল নয়, তিনি যোগ্য শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভিতকে করেছেন অত্যন্ত শক্তিশালী।
শিক্ষার মানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
পড়াশোনার মানোন্নয়নে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো ছিল অকল্পনীয়। তাঁর মেধা ও নিরলস পরিশ্রমে বিদ্যালয়ের ফলাফল জেলা পর্যায়ে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করে। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এবং তাদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ পথপ্রদর্শক।
বিদায়বেলায় অশ্রুসিক্ত আঙিনা
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, "তিনি কেবল একজন প্রধান শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক।" প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্রিয় কর্মস্থল ছেড়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর মমতা যে অমলিন, তার প্রমাণ মিলল বিদায়ী বক্তব্যে। তিনি জানান, কর্মজীবন শেষ হলেও তিনি আজীবন তাঁর প্রিয় শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর রাখবেন এবং তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করবেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ তাঁদের বক্তব্যে জানান, স্যারের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর কর্মপরিকল্পনা ও আদর্শকে ধারণ করেই পরানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
"প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিচ্ছি মাত্র, কিন্তু শিক্ষার্থীদের হৃদয় থেকে নয়। আমার দোয়া ও ভালোবাসা সবসময় পরানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রাণের সাথে থাকবে।"
— বিদায়ী প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ খাইরুল আলম
মতামত