ছবি : মোঃ আলামিন মির
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫: রাজধানীর ক্লাব নটর ডেমিয়ান-এ অনুষ্ঠিত হলো জেসিআই বাংলাদেশের বিশেষ আয়োজন “লিডারস’ টক”। এ আয়োজনের মূল বিষয় ছিল- “সংঘাত থেকে সহযোগিতায়: রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেতুবন্ধন গড়া।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সংগঠন, সমাজ কিংবা নেতৃত্ব সবখানেই রাজনীতি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে রাজনীতিকে এড়িয়ে না গিয়ে কীভাবে মর্যাদা ও বন্ধুত্ব বজায় রেখে সংঘাত সামলানো যায়, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় এবং ব্র্যান্ড ইমেজ সুরক্ষিত রাখা যায় এই প্রশ্নগুলোর বাস্তবমুখী উত্তর খোঁজা হয়েছে সেশনে।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনডিএম-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জননেতা ববি হাজ্জাজ। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেসিআই বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় সভাপতি সায়েদ আলমাস কবীর এবং এনডিএম-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার শাহেদুল আজম।
নিজের বক্তব্যে জননেতা ববি হাজ্জাজ বলেন,
রাজনীতি ও সমাজের পাশাপাশি কর্পোরেট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, এখনই সময় তা দূর করার। নতুন প্রজন্ম রাজনীতিকে ভয় না পেয়ে এখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে।
এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার শাহেদুল আজম বলেন,
গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অসংখ্য নিপীড়ন, অবিচার ও অন্যায়ের শিকার হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং দমননীতির কারণে মানুষের মনে দীর্ঘদিন ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর আমরা এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি যেখানে মানুষ স্বপ্ন দেখতে শিখছে, সাহস করে কথা বলতে শিখছে এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে শিখছে।"
তিনি আরও বলেন
আজ আমাদের দায়িত্ব এই নতুন বাংলাদেশকে শুধু রক্ষা করা নয়, বরং এটিকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করা। আমরা চাই এই রাষ্ট্র হবে এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, ভিন্নমতকে সম্মান করা হবে এবং তরুণ প্রজন্ম তাদের সৃজনশীলতা ও মেধা দিয়ে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
শাহেদুল আযম বিশেষভাবে নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বলেন-
আমাদের প্রজন্ম রাজনীতির কথা শুনলে একসময় পিছিয়ে যেত, ভয়ে সরে দাঁড়াত। কিন্তু আজকের তরুণরা ভিন্ন। তারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। তাদের চোখে আমি দেখি আশা, দেখি সাহস এবং দেখি পরিবর্তনের অঙ্গীকার। আমরা যদি তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারি, তবে এই তরুণরাই আগামী দিনের প্রকৃত নেতৃত্ব তৈরি করবে।
তিনি তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন
রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। রাজনীতিকে যদি আমরা সংঘাত নয়, বরং সহযোগিতার সেতুবন্ধন হিসেবে ব্যবহার করতে পারি তাহলেই জাতি এগিয়ে যাবে। এটাই হবে নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
বক্তারা আরও জানান, আজকের বিশ্বে একজন কার্যকর নেতার জন্য শুধু দক্ষতাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রয়োজন রাজনৈতিক সচেতনতা, কৌশলগত চিন্তা এবং মানুষের সঙ্গে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার ক্ষমতা।
সেশনে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে দেখান—কীভাবে সংঘাতকে সহযোগিতার সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব এবং কীভাবে ইতিবাচক নেতৃত্বের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা যায়।
জেলা প্রতিনিধি মোঃ আলামিন মির
মতামত