ছবি : মো: সিরাজুল ইসলাম
শাসন নাকি আদর?
ধরা যাক, একটি শিশু খেলছে। হঠাৎ কিছু ভুল করল।
আপনি চিৎকার করলেন "এটা কী করছো!"
সেকেন্ডের মধ্যেই তার মুখে ভয়ের ছাপ।
নিউরোসায়েন্স বলে এই মুহূর্তে তার ব্রেইনে কর্টিসল নামে এক স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়।
এই হরমোন সরাসরি সক্রিয় করে অ্যামিগডালা ব্রেইনের সেই অংশ, যা ভয় প্রক্রিয়া করে।
ফলাফল শিশু মনে রাখে ভয়, নিরাপত্তাহীনতা, আর আপনার কণ্ঠের কঠোরতা।
বারবার এমন হলে সে হয়ে পড়ে ভীতু, আত্মবিশ্বাসহী এমনকি শেখার ক্ষমতাও কমতে পারে।
অন্য দৃশ্যটা ভাবুন
একই ভুল করল, কিন্তু আপনি ধীরে গিয়ে বললেন,
"দেখো, এটা এমন করলে ভালো হয়…"
তার চোখে ভয় নয়, বরং কৌতূহল।
এবার ব্রেইনে নিঃসৃত হয় অক্সিটোসিন ও ডোপামিন সেই "ফিল-গুড" হরমোন, যা প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সকে সক্রিয় করে।
এটাই তাকে শেখায় আত্মবিশ্বাস, নিরাপত্তা, আর নতুন কিছু শেখার আগ্রহ।
তাহলে প্রশ্ন হলো—
চিৎকার কি সত্যিই শাসন? নাকি শুধু ভয়ের স্মৃতি তৈরি করা?
ধৈর্যই একমাত্র পথ, যা শিশুর মনে গড়ে তোলে ভালোবাসা, বিশ্বাস আর আজীবনের আত্মনির্ভরতা।
চিৎকার মুহূর্ত বদলায়,
আদর বদলায় পুরো জীবন।
মতামত