রূপালী পর্দার নায়ক বাস্তবে রাজনীতির ময়দানে নেমে আসা নতুন কিছু নয়। কিন্তু তামিল নাড়ুর বিজয় থালাপাতির রাজনীতিতে প্রবেশ যেনো বলিউড একশান মুভির বাস্তব রূপ।
২০২৩ সালে রাজনীতিতে নাম লেখানো সুপারস্টার বিজয় খুব দক্ষ হাতেই গুছিয়ে নিয়েছেন নিজের দল টি.ভি.কে। আর গত বৃহস্পতিবারের জমকালো বিশাল সিনেমেটিক দলীয় জনসমাবেশ যেনো তারই মহড়া। জনসভায় লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর উপস্থিতি তামিল নাড়ুর রাজনৈতিক চিত্র আমুল পাল্টে দেয়ার ইঙ্গিতই যেনো দিচ্ছে।
দাপুটে এই অভিনেতার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ইতিমধ্যে ঘাম জমিয়েছে বি.জে.পি এবং ডি.ডি.কে এর শীর্ষ নেতাদের কপালে।
প্রথম সমাবেশেই নিরবিচ্ছিন্ন দেশপ্রেম, সাহসিকতা এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করেন বিজয়। তবে এবার বিশাল জনসমুদ্রে সরাসরি নরেন্দ্র মোদীকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বিজয় বলেন, " শত্রুকে উৎখাত করতে মাঠে নেমেছে সিংহ। সিংহ যেখানে যায় তার রাজত্ব কায়েম করে, কোন শিয়ালের ষড়যন্ত্র আর কাজে দেবেনা।"
বিজয় বলেন, " ডি.ডি.কে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিদন্দ্বী আর বি.জে.পী আমাদের রাজনৈতিক শত্রু। যারা ধর্মকে ঢাল করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করেছে তাদের আমরা কোন ছাড় দেবোনা।"
থালাপাতি বলেন, তিনি একটি প্রগতিশীল ধর্মনিরপেক্ষ কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে চান। তিনি চান ধর্মীয় বিভেদ দেশের উন্নয়নে যেনো বাধা হতে না পারে। রাজনৈতিক জগতে নতুন ধারণার উত্থান করতে চান নায়ক বিজয়। দর্শকের মনজয় করা থালাপাতি যে দেশের গনমানুষের মনও জয় করতে সক্ষম তা প্রমান হয়ে গেলো তার সমাবেশের মধ্য দিয়ে। বিজয়ের সমাবেশের প্রভাবে রীতিমতো তোলপাড় হয়ে আছে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিষয়টি ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন ভারতবাসী এবং বিশ্লেষকগণ।
বিষয়টি অত্যন্ত চাপে ফেলছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বি.জে.পি কে। এদিকে ফ্যাসিবাদী আচরনে কারণে শক্তভাবে মুখ খুলতে পারছেন না মোদী। ভারতীয় রাজনৈতিক পরিমন্ডলে দেশ ও জাতির সম্মান নিয়ে রীতিমত খেলেছেন মোদী। ফলে সাধারণ শান্তিকামী জনতার নজর এখন প্রগতিশীল এবং মানবিক নেতৃত্বের দিকে।
মতামত