বিশেষ

রায়গঞ্জে পরিবেশ বিপর্যয়; টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি তেল তৈরি

প্রিন্ট
রায়গঞ্জে পরিবেশ বিপর্যয়; টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি তেল তৈরি

প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট ২০২৫, বিকাল ৫:৩৮

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে কারাখানা ও পরিবেশের নিয়মকে বুড়ি আঙ্গুল দেখিয়ে টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি তেল ও কালি তৈরি হচ্ছে। কৃষি জমিতে গড়ে তোলা এ কারখানার কালো ধোঁয়া আর উৎকট গন্ধে হুমকিতে পড়েছে পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।

উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের বাকাই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, মোটামুটি গোপনে চলছে এ কারখানার কাজ। বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা যানবাহনের পুরনো টায়ার পুড়িয়ে খোলাভাবে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের জ্বালানি তেল। কিন্তু এর বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। বাতাসের সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়া আর কালি মিশে পরত পড়ছে গাছে পাতায়। আশে পাশের জলাশয়ের পানি দূষিত হয়ে মরে যাচ্ছে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। সেই সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির গাছের ফুল ও ফলের বাগান।

স্থানীয়রা জানান, কারখানাটিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা বাস, ট্রাক, মটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের পুরনো টায়ার সরাসরি দেশীয় অনিরাপদ উপায়ে আগুনের তাপে গলানো হয় এসময় পটচন্ড কালো ধোঁয়া তৈরি হয়। এর থেকে তৈরি জ্বালানি তেল আসলে কোন গ্রেডের বা আদৌ গাড়ির জন্য উপযোগী কিনা তর নেই কোন প্রমান। সরকারি অনুমোদনহীন ও মানহীন এসব রিসাইকেল পিট থেকে উৎপন্ন হচ্ছে  কালি যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সবার অজানা। এর পাশাপাশি ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন এখানকার কর্মীরা। কোন প্রকার পরিবেশহীন এমন কারখানা যেন মৃত্যুফাঁদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও কালি বাতাসের সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে পড়ছে ধানের পাতায়, গাছ ও পুকুরে। এতে একদিকে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে মরে যাচ্ছে সব মাছ। অন্যদিকে গাছের ফুল ও ফল নষ্ট হয়ে ঝরে পড়ছে। এছাড়া স্থানীয় লোকজনের মধ্যে দেখা দিচ্ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ। দূর্গন্ধময় কালোধোঁয়া জনগনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনের কাছে এমন কারখানা বন্ধের দাবি জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় কৃষক সোবহান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার অবস্থাও ভয়াবহ, মানুষ ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। পুকুরে ডিম দিয়েছিলাম রেনু করার জন্য। সব মরে গেছে। এর আগে এলাকাবাসীর কঠোর ভূমিকায় বন্ধ ছিল কারখানাটি। কিছুদিন পরেই আবার তা চালু হয়েছে।

সুরেশ চন্দ্র মাহাতো নামে আরেক কৃষক বলেন, “মাঠে কাজ করতে গেলেই দুর্গন্ধে মনে হয় বমি হয়ে যাবে। বিষাক্ত বর্জ্যের দুর্গন্ধে শ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে চায় না।  বাধ্য হয়ে জমি কম দামে বর্গা দিতে হচ্ছে। পানিতে নামলে চর্মরোগ হচ্ছে। ধানের ফলন ভালো হচ্ছে না।”

কোম্পানিটির ম্যানেজার স্বপন শেখ বলেন, “পুরনো টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস ওয়েল ও কালি তৈরি করা হয়। যা বিভিন্ন ফায়ারিং কাজে ব্যবহার হয়। কালি ইটভাটায় বিক্রি করি। অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্রের বিষয়ে স্যারের সঙ্গে কথা বলতে হবে বলে জানান তিনি।”

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. তুহিন আলম জানান,  এ ধরনের কোন কোম্পানিকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড় পত্র দেওয়া হয়নি। তবে, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।