সারাদেশ

রাজবাড়ীর বেলগাছি রেলস্টেশন অর্ধেক অংশ বন্ধ দুর্ভোগের যাত্রীরা

প্রিন্ট
রাজবাড়ীর বেলগাছি রেলস্টেশন অর্ধেক অংশ বন্ধ দুর্ভোগের যাত্রীরা

ছবি : সমকাল


প্রকাশিত : ১০ আগস্ট ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:০৫

রাজবাড়ী রেলওয়ে সেকশনের ১৪টি স্টেশনে নেই স্টেশনমাস্টার। রেলওয়ের হিসাবে এসব স্টেশন বন্ধ। এর মধ্যে সাত স্টেশনে টিকিট বিক্রি হয়। বাকিগুলোয় সে সুযোগও নেই। স্টেশন বন্ধ থাকায় যথাযথ ব্যবস্থাপনা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

অন্যদিকে টিকিট কাটার সুযোগ এবং পর্যাপ্ত টিটিই না থাকায় বিনা ভাড়ায় অনেকেই ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। 
তাছাড়া বন্ধ থাকা তথা মাস্টার না থাকা স্টেশনে ক্রসিং দিতে না পারায় সামনে অথবা পেছনের স্টেশনে ট্রেনগুলোকে বসিয়ে রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। যে কারণে নির্ধারিত সময় থেকে এক-দুই ঘণ্টা বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছায় ট্রেন। 
রাজবাড়ী রেলওয়ে সূত্র জানায়, রাজবাড়ী-গোয়ালন্দ ঘাট, রাজবাড়ী-পোড়াদহ, রাজবাড়ী-ভাঙ্গা, রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া রুটে দিনে শাটল ও রাজবাড়ী এক্সপ্রেস নামে দুটি ট্রেন চলাচল করে। এছাড়া খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে বেসরকারি নকশী কাঁথা মেইল ট্রেন, রাজশাহী-ঢাকা আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস, বেনাপোল-ঢাকা আন্তঃনগর বেনাপোল এক্সপ্রেস, খুলনা-ঢাকা আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে চলাচল করে। 

পাঁচ বছরের বেশি ধরে রাজবাড়ী রেলওয়ে জোনের সূর্যনগর, বেলগাছি, মাছপাড়া, গোয়ালন্দ বাজার, খানখানাপুর, বসন্তপুর, বাখুন্ডা, তালমা, পুকুরিয়া, রামদিয়া, বহরপুর, নলিয়া জামালপুর, সাতৈর, ভাটিয়াপাড়া স্টেশনগুলোতে স্টেশন মাস্টার নেই। এগুলোর মধ্যে সূর্যনগর, মাছপাড়া, বেলগাছি, গোয়ালন্দ বাজার, বসন্তপুর, বাখুন্ডা, রামদিয়া স্টেশনে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা নেই। আন্তঃনগর ছাড়া অন্য সব ট্রেন এসব স্টেশনে থামছে, যাত্রী ওঠানামা করছে। সমস্যা হচ্ছে স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় সুবিধামতো ট্রেনের ক্রসিং দিতে না পারায়। রাজবাড়ীতে প্রায় একই সময়ে তিনটি ট্রেন এসে দাঁড়াচ্ছে। ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভাঙ্গা থেকে রাজবাড়ী এসে পৌঁছানোর কথা বেলা ১১টায় এবং ছেড়ে যাওয়ার কথা ১১টা ১১ মিনিটে। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস রাজবাড়ী আসার কথা ১০টা ৫০ মিনিটে এবং ছাড়ার কথা ১১টা ৫ মিনিটে। ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন সাড়ে ১০টায় পৌঁছে ১০টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা। 
এখানে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস দুটিকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে ভাটিয়াপাড়াগামী রাজবাড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে কখনও ফরিদপুর, কখনও পাঁচুরিয়া আবার কখনও রাজবাড়ীতে বসিয়ে রাখা হয়। ফলে এক থেকে দেড় ঘণ্টা ট্রেনের ভেতরে অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। একই অবস্থা ঘটে বিকেলেও। পোড়াদহগামী শাটল ট্রেনের ৪টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগ দিনই তা হয় না। ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস সাড়ে ৫টায় এসে ছাড়ে ৫টা ৫০ মিনিটে, রাজশাহীগামী মধুমতি ট্রেন পৌনে ৬টায় এসে ৬টা ৫ মিনিটে ছাড়ে। 


সমকাল কপি