সারাদেশ

অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ?

প্রিন্ট
অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ?

ছবি : অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ?


প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১০:১৪

গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সব সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেন। বিদায়ী চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং সদস্য নুর খান, ইলিরা দেওয়ান, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাবিলা ইদ্রিস তাদের পদত্যাগপত্রে জানান যে, জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল’ পাস হয়ে সাম্প্রতিক অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় কমিশনের বর্তমান আইনি ভিত্তি কার্যত বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এর ফলে ২০০৯ সালের পুরোনো আইন পুনর্বহাল হওয়ায় কমিশনের কার্যক্রম ও স্বাধীনতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিদায়ী সদস্যরা তাদের খোলা চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, নতুন আইনি কাঠামোতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বিশেষ করে গুম ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। এই সম্মিলিত পদত্যাগের ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও তদারকির ক্ষেত্রে একটি প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও অনিশ্চিত হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে বলেছেন, একটি কার্যকর ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন ছাড়া গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তাই তারা সরকারের কাছে মানবাধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক আইনি কাঠামো প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভুক্তভোগীরা প্রকৃত ন্যায়বিচার পেতে পারেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।