ছবি : ব্যক্তিগত রাজত্ব বনাম আইনের শাসন: শান্তিগঞ্জে সরকারি সম্পদ রক্ষার ডাক
প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০২৬, রাত ২:১৫
একটি সুশৃঙ্খল সমাজে আইনের শাসনই শেষ কথা। কিন্তু সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৫নং পাথারিয়া ইউনিয়নের হাসারচর (আমদাবাদ) গ্রামে বর্তমানে যা ঘটছে, তাকে কোনোভাবেই সভ্য সমাজের চিত্র বলা যায় না। অভিযোগ উঠেছে, জনৈক নূর ইসলাম নামক এক ব্যক্তির দাপটে সেখানে সরকারি আইন ও প্রশাসনের চেয়েও তার ব্যক্তিগত ইচ্ছাই যেন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি জমি দখল, খেলার মাঠ ধ্বংস এবং অর্থ আদায়ের যে মহোৎসব চলছে, তা এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য এক চরম দুঃসংবাদ।
পরিবেশ ও শৈশবের মৃত্যু: খেলার মাঠ এখন মরণফাঁদ
‘বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সরকারি জমি বা মাঠ থেকে মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ অভিযোগ অনুযায়ী, নূর ইসলাম প্রকাশ্য দিবালোকে ড্রেজার বা ‘বেকু’ দিয়ে মাঠের মাটি কেটে বিক্রি করছেন। এর ফলে একটি সবুজ খেলার মাঠ আজ বিশাল গর্তে পরিণত হয়েছে। যে মাঠে শিশুদের খেলার ও বেড়ে ওঠার কথা ছিল, সেটি আজ এক মরণফাঁদে রূপ নিয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি সম্পদ এভাবে ধ্বংস করা আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
‘দশ হাজারি’ বাণিজ্যের আড়ালে প্রতারণা
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সচ্ছল ব্যক্তিদের ভুয়া ভূমিহীন সাজিয়ে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সরকারি জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার এক ‘বাণিজ্য’ ফেঁদে বসেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। সরকারি জমি বরাদ্দের এখতিয়ার কেবল উপজেলা প্রশাসন ও এসি ল্যান্ডের। একজন সাধারণ ব্যক্তি যখন এই দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন এবং মসজিদের নাম ব্যবহার করে টাকা আদায় করেন, তখন তা ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার শামিল।
সত্যের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যখন সাংবাদিকরা এই অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে যান, তখন তাদের ‘ঘাড় মটকানো’ বা দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তাদের ওপর এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য প্রমাণ করে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করছেন। মনে রাখা প্রয়োজন, ভয় দেখিয়ে বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার দিন এখন আর নেই।
প্রশাসনের নিকট জোর দাবি
হাসারচর গ্রামের সাধারণ মানুষ আজ আতঙ্কিত। সরকারি সম্পত্তি কারও ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হতে পারে না। এই অরাজকতা চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামাজিক সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি:
তদন্ত ও ব্যবস্থা: অবিলম্বে সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
মাঠ সংস্কার: খেলার মাঠটিকে মাটি ভরাট করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিতে হবে।
ভুয়া সিন্ডিকেট নির্মূল: ভূমিহীন সাজিয়ে অর্থ আদায়ের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা: পেশাগত কাজে বাধা ও হুমকি দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
আমরা আশা করি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপে হাসারচর গ্রামকে এই ‘ব্যক্তিগত রাজত্ব’ থেকে মুক্ত করে সেখানে আইনের শাসন ও শান্তি ফিরিয়ে আনবে।
- এলাকাবাসীর পক্ষে সচেতন নাগরিক সমাজ
লেখক: মোঃ রেজাউল করিম
মতামত