বিশেষ

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদকত্ব ও আইনি বিতর্ক: খায়রুল আলম রফিক বনাম মাহমুদুল হাসান রতন

প্রিন্ট
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদকত্ব ও আইনি বিতর্ক: খায়রুল আলম রফিক বনাম মাহমুদুল হাসান রতন

প্রকাশিত : ৯ মার্চ ২০২৬, রাত ১০:৫৯

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকা আবারও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। হাইকোর্ট ১৯ জানুয়ারি একটি show-cause রুল জারি করেছে, যাতে পত্রিকার প্রকাশক এবং সম্পাদকদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে কেন পত্রিকার প্রকাশনা বৈধভাবে বন্ধ করা হবে না। এই রুলের মূল কারণ হলো সম্পাদকত্ব ও প্রকাশকত্বের বৈধতার বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে সরকারি নথির মিল না থাকা। বৈধতা ও প্রকাশনার আইনি প্রেক্ষাপটে সরকারিভাবে তথ্য মন্ত্রণালয় ও রেজিস্ট্রার অফ নিউজপেপারস অ্যান্ড ম্যাগাজিনস-এর নথিতে খায়রুল আলম রফিক-কে প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে নামাঙ্কিত করা হয়েছে। এই নামের অন্তর্ভুক্তি আইনি দিক থেকে তার সম্পাদকত্ব ও প্রকাশকত্বকে বৈধতা প্রদান করে। বাংলাদেশের পত্রিকা আইন অনুযায়ী, ডিক্লেয়ারেশনে নাম থাকা ছাড়া কোনো ব্যক্তির সম্পাদকত্ব আইনি স্বীকৃতি পায় না। এটি বোঝায় যে, পত্রিকার প্রকাশনা ও সম্পাদকত্বের বৈধতা শুধুমাত্র সরকারিভাবে রেজিস্টার্ড নথির মাধ্যমে নিশ্চিত। অপরদিকে, মাহমুদুল হাসান রতন নামে একজন ব্যক্তি নিজেকে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক দাবি করেছেন। তবে তার নাম সরকারি ডিক্লেয়ারেশনে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে তার দাবি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে শক্তিশালী নয়। নিউজপেপার আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, যে কেউ নিজের দাবিতে পত্রিকার সম্পাদকত্ব দাবি করতে পারে, কিন্তু তা ডিক্লেয়ারেশনে স্বীকৃত না হলে বৈধতা অর্জন করে না। আদালতের দৃষ্টিতে, হাইকোর্টের রুলে মূলত তিনটি বিষয় পরীক্ষা করা হচ্ছে: পত্রিকার প্রকাশনা ও সম্পাদকত্বের সরকারি নথির সঙ্গে মিল। ডিক্লেয়ারেশনে নাম থাকা ব্যক্তি এবং প্রকাশিত সম্পাদক/প্রকাশকের নামের মিল বা ভিন্নতা। পত্রিকার আইনি দিক থেকে প্রকাশনা অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা। সম্ভাব্য ফলাফল আইনি এবং সরকারি নথির ভিত্তিতে দেখা যায় যে, যে পক্ষের নাম ডিক্লেয়ারেশনে অন্তর্ভুক্ত (খায়রুল আলম রফিক) তার পক্ষে আদালতে জেতার সম্ভাবনা বেশি। অন্য দাবিদার পক্ষের জন্য আইনি ভিত্তি অন্যান্য নথি ছাড়া শক্তিশালী নয়। বৈধ প্রকাশনা ও সম্পাদকত্বের মূল ভিত্তি: সরকারি ডিক্লেয়ারেশন ও রেজিস্ট্রেশন। খায়রুল আলম রফিকের নাম এই নথিতে অন্তর্ভুক্ত → বৈধতা প্রমাণিত। মাহমুদুল হাসান রতনের দাবি → ডিক্লেয়ারেশনে নেই → আইনি স্বীকৃতি নেই। হাইকোর্টের রুল → প্রকাশনা বন্ধের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং নথির মিল যাচাই হবে। আইনি দিক থেকে, ডিক্লেয়ারেশনে নাম থাকা সম্পাদক/প্রকাশকই বৈধ এবং শক্তিশালী অবস্থানে, এবং পত্রিকার প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে তার পক্ষকে বেশি সুবিধা পাওয়া সম্ভাব্য।