সারাদেশ

শান্তিগঞ্জে বন্যপ্রাণী ও অস্ত্র আইন লঙ্ঘন করে পাখি নিধনের মহোৎসব,নেজামুল ও আলমগীরের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি,

প্রিন্ট
শান্তিগঞ্জে বন্যপ্রাণী ও অস্ত্র আইন লঙ্ঘন করে পাখি নিধনের মহোৎসব,নেজামুল ও আলমগীরের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি,

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ১১:২৭

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দেশের প্রচলিত আইন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে অবাধে পাখি শিকারের মহোৎসব চলছে। উপজেলার ৫নং পাথারিয়া ইউনিয়নের দরগাপুর গ্রামে লাইসেন্সবিহীন এয়ারগান দিয়ে রাতের আঁধারে নির্বিচারে দেশি ও পরিযায়ী পাখি শিকারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ​অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— দরগাপুর গ্রামের নেজামুল হক (পিতা: নজরুল ইসলাম) এবং আলমগীর (পিতা: নুরুল হক)। ​ঘটনার নেপথ্যে ও অনুসন্ধানী তথ্য ​অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত নেজামুল হক ও আলমগীর দীর্ঘ দিন ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন বিলে ও গাছে আশ্রয় নেওয়া পাখিদের লক্ষ্য করে শিকারে মেতে ওঠেন। বিশেষ করে শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখির আগমন বাড়লে তাদের এই অবৈধ তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ​সম্প্রতি একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শিকার করা বিপুল পরিমাণ পাখির নিথর দেহ প্রজাতি অনুযায়ী আলাদা করে পাত্রজাত করছেন তারা। স্থানীয়রা জানান, এই দৃশ্য কেবল অমানবিকই নয়, বরং পরিকল্পিত অপরাধ। লাইসেন্সবিহীন এয়ারগান ব্যবহার করে রাতের আঁধারে তারা প্রকৃতির এই ভারসাম্য নষ্ট করছেন। ​আইনি বিশ্লেষণ: কেন এটি দণ্ডনীয় অপরাধ? ​অভিযুক্তদের এই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের দুটি প্রধান আইনের সরাসরি লঙ্ঘন: ​১. বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২: ​ধারা ৬: এই ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বন্যপ্রাণী শিকার বা কোনো বন্যপ্রাণী, বন্যপ্রাণীর অংশ বা মাংস আহরণ করতে পারবেন না। ​ধারা ৩৮: পরিযায়ী পাখি শিকারের দণ্ড হিসেবে এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি পরিযায়ী পাখি শিকার করেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে দণ্ড দ্বিগুণ হবে। ​২. অস্ত্র আইন, ১৮৭৮: বাংলাদেশে এয়ারগান ব্যবহার বা মালিকানার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। লাইসেন্সবিহীন বা অবৈধভাবে এয়ারগান রাখা এবং তা দিয়ে পাখি শিকার করা অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ​জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ​নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, "পাখিগুলো আমাদের প্রকৃতির অলঙ্কার। নেজামুল আর আলমগীররা যেভাবে পাখি মারছে, এভাবে চলতে থাকলে এলাকায় কোনোদিন আর পাখির ডাক শোনা যাবে না।" ​পরিবেশ সচেতন নাগরিক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এখনই লাগাম না ধরলে এলাকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়বে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এবং বন বিভাগের কাছে স্থানীয়দের জোর দাবি— অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে নেজামুল হক ও আলমগীর-এর বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন এবং অস্ত্র আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।