ছবি : মো: সিরাজুল ইসলাম
কাপাসিয়ায় স্বজনদের নির্যাতনে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় একটি পরিবার।
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: মোঃ সিরাজুল ইসলাম
নিজের ঘর—যেখানে সন্তানদের হাসি, স্ত্রীর স্বপ্ন আর একটি পরিবারের সব আশা-ভরসা জড়িয়ে থাকে—সেই ঘর থেকেই উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের বীর উজুলী গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম (৫২)। পিতা মৃত আঃ রহমানের এই সন্তানটি আজ তারই স্বজনদের হাতে নির্যাতিত হয়ে পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ও আইনগতভাবে প্রাপ্য জমিতে একটি বসতঘর নির্মাণ করে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার আপনজনরাই একসময় তার শত্রুতে পরিণত হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী,
তার ভাগিনা খায়রুল ইসলাম আপন (২৮), ছোট ভাই নুরুজ্জামান (৪৫), বোন মমতাজ বেগম (৫০) এবং বোনজামাই আঃ রফিক (৬০) একত্রিত হয়ে তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন সময় মারধর ও খুন করার হুমকি দিতে থাকে। নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করা হয় বারবার।
এক পর্যায়ে প্রাণনাশের ভয়ে নজরুল ইসলাম বাধ্য হয়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে বাইরে চলে যান। আর সেই সুযোগেই ১২/১২/২০২৫ইং রোজ শুক্রবার বিবাদীরা তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দেয় এবং বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। একজন অসহায় নারী ও তার সন্তানরা মুহূর্তেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।
নজরুল ইসলাম কাঁপা কণ্ঠে বলেন,
“আমি শুধু আমার প্রাপ্য জমিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই। কিন্তু আজ আমার স্ত্রী-সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন কোথায় যাব?”
ঘটনার পরপরই তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের অবহিত করেন এবং কাপাসিয়া থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের জীবন, স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে দখলকৃত বসতঘর দ্রুত উদ্ধারের আকুল আবেদন জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এভাবে একটি পরিবারকে পথে বসিয়ে দেওয়ার ঘটনা এলাকাবাসীকে মর্মাহত করেছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বর্তমানে নজরুল ইসলাম ও তার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
এই অসহায় পরিবারটি এখন তাকিয়ে আছে প্রশাসন ও মানবিক বিবেকের দিকে—যেন তারা আবার নিরাপদে নিজের ঘরে ফিরতে পারে, যেন একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সম্মান বেঁচে থাকে।
মতামত