ছবি : অটোভ্যানে করে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে প্রশংসায় ভাসছেন শামা ওবায়েদ
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে এসে প্রথমে তিনি প্রায়ত বাবা কেএম ওবায়দুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। পরে শামা ওবায়েদ অটোভ্যানে করে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া গ্রামে বিএনপি নেতা ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার বাড়িতে এক কর্মীসভায় যোগদান করেন।
দলীয় মনোনয়ন পেয়ে অটোভ্যানে করে নির্বাচনী এলাকা ঘোরার একাধিক ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে কমেন্টেসে অনেককে শামা ওবায়েদের প্রশংসা করেন। তারা লিখেন, বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের কন্যা শামা ওবায়েদ তার বাবার মতোই হয়েছেন। ওবায়দুর রহমানও যুগের পর যুগ পায়ে হেটে ও ভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে সালথা-নগরকান্দার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা আজ তার যোগ্য উত্তরসূরি পেয়েছি। আশা, করি শামা ওবায়েদ তার বাবার পথেই হেটে এভাবে জনগনের সেবা করবেন।
পরে কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনটা সঠিক ও সুষ্ঠু হবে। এবং দেশের আপামর জনতা সার্বিকভাবে ভোট দিতে পারবে। আমরা মনে করি, সেই নির্বাচনে জনগনের ভোটে বিএনপি নির্বাচিত হবে।
তিনি বলেন, আমরা বিগত দিনে দেখেছি, কিছু মানুষ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে আবার কিছু মানুষ না খেয়ে থেকেছে। এটা তো বৈষম্য। এই বৈষম্যের জন্যই কিন্তু আমাদের ছোট ছোট ভাইবোনেরা মাঠে নেমেছিল। এই মাঠে নামতে গিয়ে বহু ছেলে-মেয়ে জীবন ও রক্ত দিয়েছে। তাদের রক্তের বিনিময় আজকে আমরা গণতন্ত্রের পথে হাটতেছি।
খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, আশির দশকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৯ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন হয়েছিল। এরপর দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়। দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে এবং ৯১ সালে জনগনের বিপুল ভোটে বিএনপি বিজয়ী হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া উপমহাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। অত্যন্ত দুঃখজনক- ওনাকে জঘন্য মিথ্যা মামলায় ৬টি বছর জেলে থাকতে হয়েছে। তারপরেও দীর্ঘ ১৭টি বছর তিনি আন্দোলন করে গেছেন। তিনি এখন অসুস্থ, সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
নিজের বাবা বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অনেক রাজনীতিবিদ আছে টাকা-পয়সা বাড়ি-গাড়ি বানিয়েছে। অবৈধ উপায়েও অনেকে সম্পদ করেছেন। কিন্তু আমি গর্বিত, কারণ আমার বাবা মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান ব্যাংকে দেনা রেখে মারা গেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর সবচেয়ে বড় সম্পদ আমার জন্য রেখে গেছেন, সেটা হলো সালথা-নগরকান্দার মানুষ। আমি দীর্ঘ ১৭টি বছর এই সালথা-নগরকান্দার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতে যদি সংসদে যেতে পারি তাহলে আরো অনেক বেশি কাজ করতে পারবো।
সাবেক বিএনপি নেতা ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার সভাপতিত্বে কর্মীসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহিন মাতুব্বর, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম মজনু, ইব্রাহিম মেম্বার, রফিক মাতুব্বর, পাবেল রায়হান প্রমূখ।
মতামত