প্রতিনিধি :-
মনিরুল ইসলাম
জেলা স্টাফ রিপোর্টার,কুমিল্লা,
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত খসড়া আসন বিন্যাস আমরা ঘোর আপত্তির সাথে প্রত্যাখ্যান করছি!
আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি—২০০১ সালের সংসদীয় আসন বিভাজনের সময় ঘোষিত কুমিল্লা-৯ (সাবেক) আসন, যা ছিল অবিভক্ত বৃহত্তর সদর দক্ষিণ নিয়ে গঠিত (বর্তমান সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলা)। এটি শুধু একটি নির্বাচনী সীমানা ছিল না—এটি ছিল আমাদের ভৌগলিক পরিচয়, সাংগঠনিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক অধিকার-এর প্রতীক।
২৫৬ কুমিল্লা-৯ (সাবেক) এর নির্বাচনী ইতিহাস:
১৯৯১, ১৯৯৬ (দুইবার), ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন সদর দক্ষিণ ও লালমাই (তৎকালীন লালমাই ছিল সদর দক্ষিণেরই অংশ) এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল।
এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ। এটি ছিল একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কেন্দ্র এবং কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধি আসন।
২০১৪ সালে লালমাই আলাদা উপজেলা ঘোষিত হলেও, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে সদর দক্ষিণ ও লালমাই আজও অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত।
অথচ আজ প্রস্তাবিত খসড়ায় সদর দক্ষিণ ও লালমাইকে ভেঙে চৌদ্দগ্রামের সঙ্গে জোড়াতালি দিয়ে একটি কৃত্রিম ও ভৌগলিকভাবে অসংগত আসন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে!
আমরা জোরালোভাবে বলছি—সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রামের ভূপ্রকৃতি, সংস্কৃতি, জনমত ও প্রশাসনিক কাঠামো—কোন কিছুতেই মিল নেই। এই ধরনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রতিনিধিত্বের মৌলিক অধিকার হরণ।
আমরা আমাদের ইতিহাসকে ভুলতে রাজি নই।
আমরা আমাদের রাজনৈতিক অধিকার বিকিয়ে দিতে রাজি নই।
আমরা অবিলম্বে এই খসড়া বাতিল করে ২০০১ সালের আদলে সদর দক্ষিণ ও লালমাইকে সমন্বিত রেখে পৃথক আসনের দাবি জানাচ্ছি।
সকল রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানাই—এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কণ্ঠ তুলুন!
মতামত