ব্যবসায়ীদের বেদনার ইতিহাস, কুমিল্লায় উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষুব্ধ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
প্রতিনিধি :-
মনিরুল ইসলাম ,
জেলা স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা,
কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানাধীন বিজরা বাজার একটি ঐতিহ্যবাহী জনবহুল বাজার। দীর্ঘদিন ধরে এ বাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে গ্রামীণ অর্থনীতির রক্তসঞ্চালন। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। কৃষক তার উৎপাদিত ফসল নিয়ে আসে, ছোট ব্যবসায়ী পুঁজি সঞ্চয় করে পরিবার চালায়, আবার দিনমজুরেরা এখানেই খুঁজে নেয় জীবিকার পথ।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এ বাজারের সরকারি জায়গায় দখলদারিত্ব কায়েম করে। তারা সরকারি সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তরিত করে সেখানে দোকানপাট নির্মাণ করেন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিকট ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করতে থাকেন। দুর্বল ও নিরুপায় ব্যবসায়ীরা জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তাদের শর্ত মেনে ভাড়া প্রদান করে দোকান চালাতেন।
আজ প্রশাসন সরকারি জায়গা উদ্ধার করতে গিয়ে এসব দখলকৃত দোকান উচ্ছেদ করেছে। আইনগত দিক থেকে এটি প্রয়োজনীয় হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রকৃত ছোট ব্যবসায়ীরাই। যারা বছরের পর বছর পুঁজি বিনিয়োগ করে দোকান সাজিয়েছিলেন, তারা আজ পথের দিশেহারা। মাথার উপর আকাশ ছাড়া আর কোনো আশ্রয় নেই তাদের।
এই ঘটনা আমাদের সমাজের একটি নির্মম বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে। ক্ষমতার জোরে প্রভাবশালী শ্রেণি বেআইনিভাবে লাভবান হয়, অথচ শোষিত হয় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগণ। সরকারি জায়গা বেদখল করে যারা বছরের পর বছর অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন না হলে বাজারের প্রাণশক্তি দুর্বল হয়ে পড়বে, গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষতি হবে।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান থাকবে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কারণ বাজার শুধু বেচাকেনার স্থান নয়, এটি মানুষের জীবিকার কেন্দ্রবিন্দু। বিজরা বাজারকে ঘিরে যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠেছে, তা যেন ধ্বংস না হয়ে বরং নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যায়, সেই দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজের সবার।
মতামত