সারাদেশ

শান্তিগঞ্জে টিউবওয়েল মেকানিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা:

প্রিন্ট
শান্তিগঞ্জে টিউবওয়েল মেকানিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা:

ছবি : শান্তিগঞ্জে টিউবওয়েল মেকানিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা


প্রকাশিত : ১৪ মে ২০২৬, ভোর ৩:১৩

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের টিউবওয়েল মেকানিক অমিতাভ দাসের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ, আপত্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের হওয়া এই মামলাটি বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মামলার বাদী হিসেবে রয়েছেন মোঃ আবু সাঈদ। মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত অমিতাভ দাসসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সম্মানহানিকর তথ্য ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার ৬ নম্বর আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অমিতাভ দাসকে। তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলার নগর গ্রামের মৃত অনিল দাসের ছেলে। একই মামলায় সুনামগঞ্জ নিউজ-এর সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম সোহেল তালুকদার, সুনামগঞ্জ ২৪ টিভির বার্তাবাহক আবুল হোসেনসহ আরও কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অমিতাভ দাস দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচনার মুখে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি সুবিধা নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন প্রকৃত উপকারভোগীদের না দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিত্তশালী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি সহায়তা পাওয়ার কথা ছিল যেসব দরিদ্র পরিবারের, তারা বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে এসব সুবিধা পেয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক প্রমাণ এখনো বিভিন্ন এলাকায় দৃশ্যমান রয়েছে। শুধু ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নয়, অমিতাভ দাসের পরিবারের সদস্যদের আচরণ নিয়েও সামাজিকভাবে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে তাঁর স্ত্রী, যিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত, তাঁকে ঘিরেও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, সম্প্রতি বিশ্ব নার্স দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেই সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের দুর্ভোগ এবং হামের প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু নার্সের আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীদের সেবার পরিবর্তে অমিতাভ দাসের স্ত্রীসহ কয়েকজন নার্স নাচ-গান ও উৎসব আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন—যখন হাসপাতালে রোগীরা কষ্টে ছটফট করছেন, তখন দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যকর্মীদের এমন আচরণ কতটা নৈতিক ও মানবিক? স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কারও মানহানি কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডেরও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন তারা।