সারাদেশ

ডোমারের, মির্জাগঞ্জ রেল স্টেশনে ট্রেন না থামায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী...

প্রিন্ট
ডোমারের, মির্জাগঞ্জ রেল স্টেশনে ট্রেন না থামায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী...

ছবি : নীলফামারী প্রতিনিধি রাব্বানী ইসলাম


প্রকাশিত : ১৩ মে ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪৩

নীলফামারীর ডোমার উপজেলা-র গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগের একটি অংশ ছিল মির্জাগঞ্জ রেল স্টেশন। একসময় এই স্টেশনটি ছিল স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসাস্থল। বিভিন্ন আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন এখানে নিয়মিত যাত্রাবিরতি করত। ফলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ সহজেই দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আজ সেই স্টেশন প্রায় অচল হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে অধিকাংশ ট্রেন এখানে থামে না, যার ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে স্টেশনটিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিল, টিকিট বিক্রি হতো, নিয়মিত যাত্রী ওঠানামা করত এবং স্টেশনটি সচল ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা অন্যত্র চলে যাওয়ার পর স্টেশনটি কার্যত অরক্ষিত ও অব্যবস্থাপনায় পড়ে যায়। বর্তমানে স্টেশনে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না থাকায় অধিকাংশ ট্রেন এখানে যাত্রাবিরতি করে না। এলাকাবাসী জানান, এখন শুধুমাত্র সকাল ৭টার দিকে “খুলনা মেইল” নামের একটি ট্রেন অল্প সময়ের জন্য ২ নম্বর লাইনে থামে। তাও যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। ট্রেনটি মূল লাইনের পরিবর্তে ২ নম্বর লাইনে থামায় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ওঠানামায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়েও যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, ডোমার থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। অথচ স্টেশনটির আশপাশে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও চাকরির প্রয়োজনে বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন। কিন্তু ট্রেন না থামায় তাদের বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ডোমার থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চিলাহাটি আইকনিক রেল স্টেশন-এ প্রায় সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে। ফলে মির্জাগঞ্জ এলাকার যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে হলে আগে ডোমার অথবা চিলাহাটি যেতে হয়। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং সময়ও নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য এটি আরও কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের বাড়ির পাশেই রেল স্টেশন রয়েছে, কিন্তু কোনো ট্রেন থামে না। কোথাও যেতে হলে আগে ডোমার বা চিলাহাটি যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি লাগে। অথচ আগে এখানেই ট্রেন থামত।” আরেকজন বলেন, “স্টেশনটি সচল থাকলে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হতো। এখন স্টেশন ফাঁকা পড়ে আছে। দেখার যেন কেউ নেই।” স্থানীয়দের দাবি, মির্জাগঞ্জ রেল স্টেশনটি পুনরায় চালু করে এখানে সকল আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে স্টেশনে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, টিকিট ব্যবস্থা চালু এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর মতে, মির্জাগঞ্জ রেল স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি পুনরায় চালু হলে শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষও ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে, সময় ও খরচ কমবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।