চিকিৎসক সংকটে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রোগীদের ছুটতে হচ্ছে দিনাজপুর মেডিকেলে!
মোঃ সাব্বির হোসেন,
পীরগঞ্জ ( ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট ও ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ পালনের বেড়াজালে চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) পদটি অতিরিক্ত দায়িত্বে চলায় প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসেবা—উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) কোনো চিকিৎসকের দেখা নেই। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সেবা না পেয়ে অনেক রোগীকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার হাসপাতালে শয্যা খালি না পেয়ে উন্নত চিকিৎসার আশায় ঠাকুরগাঁও সদর বা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী রোগীরা অভিযোগ করেন, সরকারি এই হাসপাতালে সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায় না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ তৎকালীন কর্মকর্তা ডা. কামাল আহমেদের বদলির পর থেকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইউএইচএফপিও ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ সাইদুর পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সদর থেকে পীরগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার হওয়ায় দুই জায়গার দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে , অতিরিক্ত দায়িত্ব হওয়ার কারণে তিনি সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন হাসপাতালে আসেন এবং খুব অল্প সময় অবস্থান করেন। ফলে প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়ারিস ইয়াজদানি বলেন, “চিকিৎসক সংকট ও অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে আমাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রোগীর চাপ দিন দিন বাড়লেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি।”
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ সাইদুর নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি পীরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। ঠাকুরগাঁও সদর থেকে পীরগঞ্জের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিদিন সেখানে যাওয়া সম্ভব হয় না। এছাড়া আমি নিজেও কয়েক দিন ধরে অসুস্থ। তবুও ফোনে যতটুকু সম্ভব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।”
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিসুর রহমান বলেন, “পীরগঞ্জের চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিচালকের (প্রশাসন) সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হবে।” এছাড়া হাসপাতালের বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে জেনারেটর বা সোলার প্যানেলের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।
মতামত