ছবি : ময়মনসিংহের নন্দাইল উপজেলায় ধ্বর্ষণের শিকার প্রসূতি নারী তদন্তে পিবিআই
প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, বিকাল ৩:৫৮
ময়মনসিংহের নান্দাইলে তিন বছরের শিশুর সামনে প্রসূতি নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ। তদন্তে নেমেছে একাধিক সংস্থা। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় তিন বছরের কন্যাশিশুর সামনে এক ২৮ বছর বয়সী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল রাতে উপজেলার শিমুলতলী ও কান্দিউড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। তবে ভুক্তভোগী নারী ও তার শিশুকে গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে উদ্ধার করে নান্দাইল থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়। ভুক্তভোগীর দেওয়া বর্ণনা এবং পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই নারী ভালুকায় স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পথে পথ হারিয়ে ফেললে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে সাহায্যের নাম করে নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর তাকে দুই ধাপে মোট ছয়জন মিলে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তিন বছরের শিশুকেও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়, যার ফলে শিশুর চোখের নিচে ক্ষত সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর গভীর রাতে স্থানীয় এক ইজিবাইক চালক শিশুসহ ওই নারীকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান এবং নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে স্থানীয় এক নারী তাকে প্রাথমিক সেবা প্রদান করেন। তবে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং আশ্রয়দাতাদের ওপর চাপ ও হুমকি আসতে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাটি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং আশ্রয়দাতাদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয়—যা তদন্তের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগীর বক্তব্য যাচাই, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগীর ভাষ্য ও প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে এটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে এবং পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এমন নৃশংস ঘটনায় শুধু দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই নয়, বরং ভুক্তভোগী মা ও শিশুর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও শারীরিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, জননিরাপত্তা ও নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
মতামত