ছবি : ইবিতে জুলাই বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ইবি শিবির সভাপতি
সারা বাংলাদেশে পালিত হয় জুলাই বিপ্লবের প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। সেই আলোকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জুলাই বিপ্লবের ১ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মু. মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, আজকের এই দিনে শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি জুলাই বিপ্লবের মুল নায়ক আমাদের রাহবার শহিদদেরকে। মহান আল্লাহর কাছে শহিদী মর্যাদা কামনায় দোয়া করছি, ১৭ই জুলাই রহস্যময় হত্যা কান্ডের শিকার জুলাই যোদ্ধা সাজিদ আব্দুল্লাহকে স্বরণ করছি। তিনি বলেন, এই বিপ্লব আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।
কিন্তু আমার বুকের ভিতর একটা শুন্যতা কাজ করে সেটি হচ্ছে আমাদের ওয়ালিউল্লাহ-আল মুকাদ্দাস ভাই। গত পনেরো বছরের ফ্যাসিস্ট ক্ষমতার প্রথম থাবা আসে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রশিবিরের সদস্য এবং অর্থ সম্পাদক মোঃ ওয়ালিউল্লাহ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল মুকাদ্দাস কে আশুলিয়ার নবিনগর থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া ফেরার পথে হানিফ পরিবহনের ৩৭৫০ নং গাড়ি থেকে সাদা পোশাকে খুনি হাসিনার পালিত প্রশাসন অপহরণ করে, এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাননি তার পরিবার। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তাদেরকে মায়ের কোলে ফেরানোর জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি! তারা কখনো মনেই করেননা ওয়ালিউল্লাহ-আল মুকাদ্দাস ইবির শিক্ষার্থী ছিলেন। আমরা মনে করি ইবির বর্তমান প্রশাসন আমাদের আন্দোলনের ফসল কিন্তু তারা এটি ধারন করার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।দুঃখের বিষয় হচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কিন্তু কখনো ওয়ালিউল্লাহ-আল মুকাদ্দাস ভাইদের স্বরণ করা হয়না।
তিনি আরো বলেন, বাকৃবিতে ১৩৩ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে কারন তারা জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে দারিয়ে ছিলো, কিন্তু আমার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিয়েছিলো "আর নয় হেলাফেলা ,এবার হবে ফাইনাল খেলা " এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে সুযোগ করে দিচ্ছেন? তারা একের পর এক দূর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন। তাদের তো কাজ নেই তারা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ব্যপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। শহিদ সাজিদ আব্দুল্লাহর খুনি বের করে শাস্তি নিশ্চিত করুন। বিশ্ববিদ্যালয় কে জুলাই বিপ্লবের আলোকে সংস্কার করার চেষ্টা করুন। তিনি আরো বলেন, এই জুলাই এসেছে এমন একটি পরিবর্তনের জন্য যেখানে সরকার পরিবর্তন হবে না,দেশের চরিত্রের পরিবর্তন হবে। এখানে শুধু নেতার পরিবর্তন হবেনা ,নেতার দর্শনের পরিবর্তন হবে। নাগরিক শাসক কে ভয় পাবে না,শাসক নাগরিকদের ভয় পাবে। সেইরকম সমাজ ব্যবস্থা আমাদের কে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বাংলাদেশের সৌভাগ্য যে বাংলাদেশের মানুষ শাহাদাত বরণ করতে শিখেছে।যে দেশের মানুষ শাহাদাত বরণ করতে শিখেছে সে দেশ কখনো পথ হারাতে পারে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন "দৈনিক আমারদেশ পত্রিকার সম্পাদক ,মাহমুদুর রহমান, সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ সহ আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মতামত