ছবি : ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানায় সংঘর্ষ আহত দুই ডাকসু নেতা
প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১২:৪৬
ঢাকার শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত শাহবাগ থানাকে কেন্দ্র করে ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক ও এ বি জুবায়েরের ওপর হামলার ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের একটি উদ্বেগজনক রাজনৈতিক সংঘর্ষ হিসেবে সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নামে এক শিক্ষার্থীর আইডি থেকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়, যা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় মামলা করতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় গেলে, অন্যদিকে ওই শিক্ষার্থী আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে একই থানায় উপস্থিত হন। এতে করে একই স্থানে দুই পক্ষের উপস্থিতি উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে যখন উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একপর্যায়ে সংঘর্ষ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে থানার ভেতরেই মারধরের ঘটনা ঘটে এবং এতে ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক ও জুবায়ের আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, একদল কর্মী সংঘবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়, যদিও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে ঘটনাটি আকস্মিক উত্তেজনার ফল এবং এতে তাদের নেতাকর্মীদের উসকানি দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি সংবেদনশীল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করেই মূলত এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষ একই সময়ে থানায় উপস্থিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে থানার ভেতরে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ নয়; বরং এটি দেশের ছাত্ররাজনীতিতে বিরাজমান দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে, একটি থানার মতো নিরাপদ স্থানে এমন সহিংসতা সংঘটিত হওয়া ভবিষ্যতে নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে।
মতামত