গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের পড়িয়াব গ্রামে প্রবাসে থাকা এক পরিবারের প্রায় এক থেকে দেড় বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে স্থায়ী বসতভিটা নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগে জানা যায়, একই গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন ফালুর তিন ছেলে—আবুল কাশেম, জাকির হোসেন ও আলী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। তাদের অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে তাদের বোগ দখল জমিতে প্রবেশ করে দখল নেয় এবং ধীরে ধীরে সেখানে বসতভিটা ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি দখলের পুরো ঘটনাটি ছিল সুপরিকল্পিত এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ মদদে সংঘটিত হয়েছে। শুধু জমি দখল নয়, ওই জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও মূল্যবান সম্পদ কেটে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে আলামিন, ইব্রাহিম (পিতা: গিয়াসউদ্দিন), অলিউল্লাহ, শহিদুল্লাহ (পিতা: মমতাজ উদ্দিন) সহ আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, এরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দখল-বাণিজ্যের সাথে জড়িত।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আবুল কাশেমের স্ত্রী সাহিদা কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে পূর্বে একটি মামলাও করা হয়েছে, তবে এখনো কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
সাহিদা অভিযোগ করে বলেন,
“আমার স্বামী ও দেবররা প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে আমাদের জমি দখল করা হয়েছে। আমরা দেশে না থাকলে কি আমাদের সম্পত্তির কোনো অধিকার থাকবে না? কারা তাদের এই সাহস দিল যে তারা আমাদের জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করবে?”
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা প্রায়ই তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। একাধিকবার তাদের বাড়িতে এসে মারধরের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে করে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত সম্পত্তি এভাবে দখল হওয়া শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং এটি আইনের শাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
মতামত