সারাদেশ

পাথারিয়া বাজারে ব্যবসায়ী নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার :

প্রিন্ট
পাথারিয়া বাজারে  ব্যবসায়ী নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার :

ছবি : পাথারিয়া বাজারে ব্যবসায়ী নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার :


প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, রাত ৯:৩০

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজারে এক ব্যবসায়ীকে ঘিরে ওঠা ‘তুলে নিয়ে মারধর’ অভিযোগ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা ও আলোচনা। যুবদল নেতা হাবিবুর রহমানকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একে সরাসরি ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরভোগ গ্রামের এক বাসিন্দার পাওনা টাকা পরিশোধ না করা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ব্যক্তির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলামের সঙ্গে কথাকাটাকাটিতে জড়ান —এমন অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে অভিযোগ করা হয়, হাবিবুর রহমানকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়। পাথারিয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। তারা দাবি করেন, অভিযোগে যে ধরনের ‘অপহরণ ও মারধরের’ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। দুইজন ব্যবসায়ী সরাসরি বলেন— “এই ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা আমাদের চোখে পড়েনি। ব্যস্ত বাজারে কাউকে তুলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মারধর করা হলে তা গোপন থাকার প্রশ্নই ওঠে না।” আরও এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান— “এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত অপপ্রচার। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।” রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের দাবি, যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান তার রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। “যদি সত্যিই তাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হতো, তাহলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা যেত। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি।” বাজারে প্রভাব ও উদ্বেগ এই ঘটনার জেরে পাথারিয়া বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ চলতে থাকলে ব্যবসায়িক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। কোনো পক্ষের প্রভাব ছাড়া তদন্ত হলে বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে এবং দোষী-নির্দোষ নির্ধারণ সহজ হবে। অভিযোগ ও পাল্টা দাবি এই টানাপোড়েনে পাথারিয়া বাজার এখন উত্তপ্ত। সত্য উদঘাটন ছাড়া এই উত্তেজনা প্রমানিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের সমন্বিত দাবী নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।