গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের বীর উজলী গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী শাহজাহান সাজু এক ভয়াবহ নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একটি ফিলিং স্টেশনের মালিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় “জাহান ফিলিংস স্টেশন”-এ জ্বালানি তেলের বকেয়া ২৫ হাজার টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে শাহজাহান সাজু সেখানে গেলে, স্টেশনের মালিক বাবু তাকে দেখামাত্রই কোনো কথা ছাড়াই অশ্রাব্য গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে কলার ধরে টেনে স্টেশনের অফিস কক্ষে নিয়ে আটক করে রাখা হয়।
সেখানে শাহজাহান সাজুর কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। শুধু তাই নয়, ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দুটি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসময় তাকে এলোপাথাড়ি মারধরও করা হয় এবং হুমকি দিয়ে বলা হয়—এই ঘটনা কাউকে জানালে ওই স্ট্যাম্প ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
ঘটনার পর বাড়ি ফেরার পথে আরও আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি তার পথরোধ করে ৬ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।
এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু সেখানেও রেহাই পাননি। কিছুক্ষণ পর সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা ঘরে ঢুকেই শাহজাহান সাজু ও তার স্ত্রী সাহেরা খাতুনকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, ওই ব্যক্তিদের একজন নিজেকে “মনির, কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ডের” পরিচয় দিয়ে বলে—
“আমি বহুবার জেল খেটেছি, আমাকে সবাই চেনে। ডিসি, এসপি, ওসি—এরা আমার কিছুই না।”
এরপর তারা সরাসরি ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং হুমকি দেয়, টাকা না দিলে শাহজাহান সাজুকে হত্যা করে তার লাশ গুম করা হবে।
এ সময় ভয়ে শাহজাহান সাজুর স্ত্রী সাহেরা খাতুন চিৎকার শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি
এ ধরনের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি নির্দেশ করে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মতামত