সারাদেশ

রাজনীতি কি জনসেবা নাকি সম্পদ গড়ার হাতিয়ার? সংসদে জনগনের কথা বলার দাবি

প্রিন্ট
রাজনীতি কি জনসেবা নাকি সম্পদ গড়ার হাতিয়ার?  সংসদে জনগনের কথা বলার দাবি

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১১:০৩

মিজানুর রহমানঃ ​আমরা দুবেলা দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে শান্তিতে বাঁচতে চাই। আমাদের নিয়ে রাজনীতির নামে আর কত ছিনিমিনি খেলা হবে?” রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা দিনমজুর রহমত মিয়ার এই আক্ষেপ আজ দেশের কোটি সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কথা। ​দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুঞ্জীভূত হচ্ছে তীব্র ক্ষোভ। জনগণের অভিযোগ, রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের দুয়ারে গেলেও সংসদে গিয়ে তারা জনস্বার্থের চেয়ে নিজের আখের গোছাতে এবং প্রতিপক্ষকে বিষোদ্গারে বেশি ব্যস্ত থাকেন। ​জনগণের প্রত্যাশা বনাম সংসদীয় বাস্তবতা ​একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জাতীয় সংসদ হলো জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব সমস্যা, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যায়, সংসদ অধিবেশনের সিংহভাগ সময় ব্যয় হয় ব্যক্তিগত আক্রমণ আর ‘কাঁদা ছোড়াছুড়ি’তে। সাধারণ মানুষ মনে করেন, রাজনীতিবিদরা যদি নিজেদের বিবাদ ভুলে সংসদের ভেতরে জনগণের মৌলিক সমস্যার কথা তুলে ধরতেন, তবে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হতো। ​রাজনীতি যখন ‘আলাদিনের চেরাগ’ ​দেশের সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতি বর্তমানে অনেকের কাছে ‘আলাদিনের চেরাগ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শূন্য থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হওয়ার ঘটনা এখন ওপেন সিক্রেট। ​অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি: হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক দশকে অনেক রাজনীতিকের সম্পদ বেড়েছে কয়েক হাজার গুণ। এক সময় যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাত, রাজনীতিতে এসে আজ তারা আলিশান বাড়ি, দামি গাড়ি এবং বিদেশের মাটিতে অঢেল সম্পদের মালিক। ​দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার: উন্নয়নের দোহাই দিয়ে মেগা প্রজেক্ট থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের বরাদ্দ সবখানেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অর্থ লোপাটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ​বিশেষজ্ঞ ও জনগণের দাবি ​অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতির সংজ্ঞা বদলে গেছে। তাদের মতে, রাজনীতি যখন জনসেবা ছেড়ে ব্যবসায় পরিণত হয়, তখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। দেশের সাধারণ মানুষ এখন চায়: ​সংসদে গঠনমূলক আলোচনা: ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ করে জনদুর্ভোগ নিয়ে কথা বলা। ​জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: রাজনীতির আড়ালে যারা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তাদের তদন্তের আওতায় আনা। ​অর্থনৈতিক নিরাপত্তা: সাধারণ মানুষের ডাল-ভাতের সংস্থান এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। ​“আমরা চাই এমন এক রাজনীতি, যা মানুষের চোখের পানি মোছাবে, মানুষের পেটের ক্ষুধা বুঝবে। রাজনীতি যেন গুটিকয়েক মানুষের সম্পদ গড়ার লাইসেন্স না হয়।” নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। ​বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ আজ ক্লান্ত। তারা চায় স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন। রাজনীতিবিদরা যদি নিজেদের আখের গোছানোর নেশা ত্যাগ করে সত্যিকারের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ না হন, তবে সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সংকটের সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।