মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় হিন্দু নারী কবিরাজ রেখা রাণী রায় (৬৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের প্রতিবেশী মীর হোসেন (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর বিকালে সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রেখা রাণী রায় নিখোঁজ হন। পরদিন স্থানীয়রা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহের দুই হাত ও দুই পা গামছা দিয়ে বাঁধা এবং গলায় শাড়ি প্যাঁচানো ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সিরাজদিখান থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি প্রথমে সিরাজদিখান থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহতের প্রতিবেশী মীর হোসেনের আচরণ ও ঘটনার পর তার পলাতক থাকার বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে খুঁজতে শুরু করে পিবিআই।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ২ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের বারিগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, দাঁতের তীব্র ব্যথার কারণে তিনি ছেলে শিহাবকে দিয়ে স্থানীয় কবিরাজ রেখা রাণী রায়কে ঔষধ দেওয়ার জন্য ডাকেন। তবে তিনি তার বাড়িতে যাননি।
পরবর্তীতে ঘটনার দিন বিকালে মীর হোসেন স্থানীয় কবরস্থান পরিষ্কার করছিলেন। ওই সময় রেখা রাণী রায় কবরস্থানে প্রবেশ করে ভেষজ গাছের শিকড় সংগ্রহের চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি রেখা রাণী রায়ের শাড়ির আঁচল দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন।
পরে নিজের কোমরে থাকা গামছা ছিঁড়ে নিহতের দুই হাত ও দুই পা বেঁধে টেনে পাশের ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পানিতে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত এখনও চলমান।
মতামত