কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় এক মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)-এর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় এক মা ও তার কলেজপড়ুয়া মেয়েকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলার তদন্তের জন্য পেকুয়া থানার এক এসআই ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ওই পরিবারের বিরুদ্ধেই তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এরপর টাকা ফেরত চাইতে থানায় গেলে মা ও মেয়েকে মারধর করা হয় বলেও দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে অভিযোগ করা হয়, মা ও মেয়ে থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি ও অসদাচরণ করেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং ওই মা ও তার কলেজপড়ুয়া মেয়েকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে থানার ভেতরে কোনো ঘটনা ঘটলে সাধারণত পুলিশ মামলা দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়ায় তা নিষ্পত্তি করে থাকে। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আহত অবস্থায় সাজা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইডের নির্বাহী পরিচালক ও সাংবাদিক আলী আসগর ইমন তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, ঘটনাটি নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়কে আইনি প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অভিযোগ দায়ের করা হবে।
তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনাটি নিয়ে শিগগিরই একটি বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
সোর্স: আলী আসগর ইমনের ফেসবুক পোস্ট।
মতামত