অপরাধ

রৌমারী উপজেলা-র ৬নং চর শৌলমারী ইউনিয়ন-এ ধর্মান্তর অভিযোগ: এলাকায় উত্তেজনা, তদন্তে পুলিশ

প্রিন্ট
রৌমারী উপজেলা-র ৬নং চর শৌলমারী ইউনিয়ন-এ ধর্মান্তর অভিযোগ: এলাকায় উত্তেজনা, তদন্তে পুলিশ

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ৯:৩৫

রৌমারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা-র ৬নং চর শৌলমারী ইউনিয়ন-এর ডিগ্রি কলেজ পাড়ায় আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে মুসলমানদের খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তর করার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শামসুল নামের এক ব্যক্তি বৈবাহিক সূত্রে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায় হলেও বিয়ের পর থেকে তিনি চর শৌলমারী ইউনিয়নের কলেজ পাড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, শামসুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আর্থিক সহায়তা, মাসিক ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা ও বিদেশি সংস্থার সহায়তার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ ও দরিদ্র মুসলমান পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। বিশেষ করে অভাবগ্রস্ত পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি, যদিও এ তথ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনাটি প্রথমে এলাকায় গোপনে আলোচনায় থাকলেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত শামসুলসহ আরও কয়েকজনকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে রৌমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ধর্মীয় সংবেদনশীল হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারিবারিক জিম্মায় রাখা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। একই সঙ্গে তারা গুজব বা অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সকলকে সংযত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।