কুড়িগ্রামে ৫ কোটি টাকার নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: ২৯.০১.২০২৬ খ্রি.
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন দাখিল ও ফাজিল মাদরাসায় ভুয়া নিয়োগ, নজিরবিহীন জালিয়াতি এবং প্রায় পাঁচ কোটি টাকার এমপিও বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে স্মারকলিপিটি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে গত পাঁচ মাসে অন্তত ২০টি পদে অবৈধভাবে এমপিওভুক্ত করে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, উপজেলার বড়ঘাট গমীর উদ্দিন দাখিল মাদরাসার সুপার আবদুল আউয়াল এনটিআরসিএর কোনো সুপারিশ ছাড়াই তাঁর দুই মেয়েকে অবৈধভাবে এমপিওভুক্ত করেছেন। এ ছাড়া আগে জালিয়াতির দায়ে এমপিও বাতিল হওয়া একজন ব্যক্তিকে পুনরায় ভিন্ন পদে নিয়োগ দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্তিত্বহীন ল্যাবরেটরির বিপরীতে কর্মচারী নিয়োগ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
একই স্বারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সিরাজউদ্দিন দাখিল মাদরাসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে এডহক কমিটি থাকা সত্ত্বেও সভাপতির অজান্তে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর জাল করে ওই মাদরাসার সুপারের ছেলেসহ তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বুড়িরহাট আবদুস সামাদ মণ্ডল দাখিল মাদরাসা ও রাজমল্লীরহাট ফাজিল মাদরাসাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির প্রতিনিধির নামে ভুয়া চিঠি এবং পত্রিকায় জাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ২০১৫ ও ২০২২ সালের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ান পদে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ বাধ্যতামূলক হলেও রাজারহাট উপজেলায় সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরাসরি ভুয়া নিয়োগ দিয়ে এমপিও সুবিধা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের মধ্যে খন্দকার আরিফ, আবদুল্লাহ আল মামুন ও মাইদুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি পদের বিপরীতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এমনকি ডাংরারহাট আজিজিয়া আলিম মাদরাসায় নিয়োগের আগেই প্রায় ৭৫ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। তাঁরা অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বড়ঘাট গমীর উদ্দিন দাখিল মাদরাসার সুপার আবদুল আউয়াল বলেন, এই নিয়োগের বিষয়ে আমি আপনার সাথে সরাসরি দেখা করে কথা বলবো। এখন একটি মিটিং এ আছি বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, নিয়োগে অনিয়ম ও বাণিজ্যের অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
আসাদুজ্জামান, জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
০১৭১৮৬৮৫৪০৮
মতামত