সারাদেশ

শান্তিগঞ্জে সুদের রক্তচোষা ‘ঢালী খাতা’ নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার আর কতদিন চলবে এই লুটপাট

প্রিন্ট
শান্তিগঞ্জে সুদের রক্তচোষা ‘ঢালী খাতা’ নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার আর কতদিন চলবে এই লুটপাট

ছবি : শান্তিগঞ্জে সুদের রক্তচোষা ‘ঢালী খাতা’ নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার আর কতদিন চলবে এই লুটপাট


প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ভোর ৫:২৩

সুনামগঞ্জ শান্তিগঞ্জে শান্ত জনপদ শান্তিগঞ্জের আকাশে এখন সুদের কালো মেঘ। এখানে আইন চলে না, চলে সুদের কারবারিদের নিজস্ব ‘শাসন’। হাসারচর গ্রামসহ পুরো এলাকা এখন এক অঘোষিত টর্চার সেলে পরিণত হয়েছে। যেখানে ‘ঢালী খাতা’ নামের এক মরণফাঁদে আটকে পিষ্ট হচ্ছে শত শত পরিবার। কোনো ব্যাংক বা লাইসেন্স নয়, একদল রক্তচোষা সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের অভাবকে পুঁজি করে মেতে উঠেছে এক পৈশাচিক উৎসবে। ​‘ঢালী খাতা’: এক আধুনিক দাসত্বের নাম ​তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। হাসারচর গ্রামের একটি চক্র নিজেদের তৈরি করা ‘ঢালী খাতা’ ব্যবহার করে এই অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা যুবক বা অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য টাকা নেওয়া কৃষক— কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না এই চক্র। ​গাণিতিক নিষ্ঠুরতা: প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকায় সুদ গুনতে হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা! ​বার্ষিক সুদ: অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই সুদের হার বছরে ৯৬% থেকে ১২০% পর্যন্ত পৌঁছায়। ​পরিণতি: মূল টাকা শোধ হলেও সুদের জালে আটকে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ​আইনের তোয়াক্কা নেই, আছে শুধু হুমকি ​বাংলাদেশের মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) আইন-২০০৬ এবং মানি ল্যান্ডার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী অনুমোদনহীন এমন ঋণ ব্যবসা শুধু অবৈধই নয়, দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু শান্তিগঞ্জের এই চক্রটি প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বীরদর্পে চালাচ্ছে তাদের লুটপাট। ​ভুক্তভোগীদের বুকফাটা আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে ঘরে ঘরে। টাকা দিতে সামান্য দেরি হলে পাওনাদাররা বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষার মেজাজ দেখাচ্ছেন। প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত টাকা চলে যাচ্ছে এই সুদখোরদের পেটে। ​"আমরা কি স্বাধীন দেশে বাস করছি না কি সুদখোরদের রাজত্বে? প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই জুলুম চলে? — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী। ​প্রশাসনের প্রতি খোলা প্রশ্ন: আর কত দেরি? ​আইনজীবীদের মতে, এই চক্রের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। শান্তিগঞ্জের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার আগেই স্থানীয় সচেতন মহল সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। ​দাবি একটাই: অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ 'ঢালী খাতা' জব্দ করা হোক এবং এই রক্তচোষা সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা হোক। নয়তো এই ‘সুদের মরণফাঁদ’ অচিরেই একটি বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা ও আত্মহত্যার মিছিল তৈরি করবে।