ছবি : সালথায় মাঠজুড়ে হালি পেঁয়াজের চারা রোপণের মহোৎসব চলছে।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠজুড়ে হালি পেঁয়াজের চারা রোপণের মহোৎসব চলছে। তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকদের প্রস্তুত করা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সরেজমিনে সালথার বিভিন্ন পেঁয়াজ খেতে গিয়ে দেখা যায়, প্রস্তুত করা জমিতে একজন শ্রমিক হাত লাঙল দিয়ে পিলি কেটে দিচ্ছেন। আর কৃষকেরা সারিবদ্ধভাবে বসে সেই পিলির মধ্য দিয়ে পেঁয়াজের চারাগুলো নিপুণ হাতে রোপণ করছেন।
অন্যদিকে গৃহস্থরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বীজতলার খেত থেকে পেঁয়াজের চারা তুলছেন। আবার কেউ কেউ খেতে পেঁয়াজের চারা রোপণ শেষ হওয়া মাত্রই শ্যালো-মেশিন দিয়ে সেচ দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, সালথা উপজেলায় মোট ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর ফসলী জমি রযেছে। তার মধ্যে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা আছে ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর। তা অতিক্রম করে সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হতে পারে।
পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়ে চলবে হালি পেঁয়াজ রোপন। এবছর সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে লালতীর কিং, সুলতান, সম্রাট, রানী-১, রঙ্গিলা-৭, সুখ সাগর ও এস ক্রোস-৮০ জাতের পেঁয়াজের আবাদ হবে।
উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের পেঁয়াজ চাষি মুক্তার মোল্যা ও হাসান বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবছরও আমরা বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজের হালি লাগানো শুরু করেছি। সার-কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় আবাদ খরচ গত বছরের চেয়ে বেশি হবে। সেই তুলনায় পেঁয়াজের সিজনে দাম ভালো না পেলে লোকসান গুনতে হবে।’
উপজেলার কয়েকজন চাষি জানায়, ‘গতবার সিজনে পেঁয়াজের দাম কম ছিলো। বছরের শেষ দিকে দাম বাড়লেও ক্ষুদ্র ও মধ্যবিত্ত চাষিরা এই দাম পায়নি। আর এবছর তো পেঁয়াজ চাষে খরচ আরো বেশি হবে। সব কিছুর দাম বাড়তি।’
সালথা উপজেলা কৃষি অফিসার সুদর্শন সিকদার বলেন, ‘সালথা উপজেলা পেঁয়াজের জন্য বিখ্যাত। এই উপজেলায় এবছর পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর। ধারনা করা হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে। বর্তমানে চলছে পেঁয়াজের হালি রোপনের কাজ। আমরা প্রতিনিয়ত চাষিদের সব ধরণের পরামর্শ দিয়ে আসছি।
মতামত