সারাদেশ

গাজীপুর কাপাসিয়ায় নদী থেকে কোটি টাকার অবৈধ বালি উত্তোলন: ইউএনও ও এসিল্যান্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল সরঞ্জাম জব্দ।

প্রিন্ট
গাজীপুর কাপাসিয়ায় নদী থেকে কোটি টাকার অবৈধ বালি উত্তোলন: ইউএনও ও এসিল্যান্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল সরঞ্জাম জব্দ।

ছবি : মো: সিরাজুল ইসলাম


প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:১২

গাজীপুর কাপাসিয়ায় নদী থেকে কোটি টাকার অবৈধ বালি উত্তোলন: ইউএনও ও এসিল্যান্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল সরঞ্জাম জব্দ।

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: মোঃ সিরাজুল ইসলাম। 

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের উলুসারা গ্রামে নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ তামান্না তাসনিম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহিদুল হক।

অভিযান পরিচালনার সময় প্রশাসন নদীর ঘাট এলাকায় বড় পরিসরে অবৈধ বালি উত্তোলনের প্রমাণ পায়। বিশেষ করে নদীর তীর ঘেঁষে তৈরি বালির গদিতে পাওয়া যায় অসংখ্য বালি তোলার যন্ত্রপাতি—যার মধ্যে ছিল লম্বা পাইপ, লোহার শাবল-কোদাল, ইঞ্জিনচালিত মেশিন, বাঁশের তৈরি স্ট্রাকচার, নৌকা, বালিভর্তি বস্তা এবং আরও বহু সরঞ্জাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই রাতে ও ভোরবেলায় নদীর তলদেশ গভীর করে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছিল। এতে নদীর প্রাকৃতিক গতি পরিবর্তন, পাড় ভাঙন এবং আশেপাশের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

অভিযান শেষে ইউএনও মোছাঃ তামান্না তাসনিম সাংবাদিকদের বলেন—

“নদী থেকে এভাবে বালু তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে—এই স্থান থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লক্ষ টাকার সমমূল্যের বালি অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড নদী ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি। আমরা নিয়মিতভাবে এমন অভিযান চালিয়ে যাব এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহিদুল হক বলেন,

“নদী রক্ষায় কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্রকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও মামলা করা হবে।”

অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল নদীর বুকে গভীর গর্ত তৈরি করে বালি তুলছিল, যার ফলে নদীর ধারা পরিবর্তন হয়ে আশপাশের গ্রামগুলো যুকির মুখে পড়ে গেছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে এলাকায় মুখে-মুখে প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী আরও জানান, রাতের অন্ধকারে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালি তুলছিল একাধিক ব্যক্তি। ফলে নদীর পাড় ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। অনেক কৃষক তাদের জমি নদীতে বিলীন হওয়ার ভয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, জব্দ করা সরঞ্জামসমূহ আইনানুগভাবে ধ্বংস বা বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নদীর তলদেশ খুঁড়তে থাকলে শুধু নদীরই ক্ষতি নয়, বরং পুরো এলাকার জলবায়ু ও পরিবেশগত সমতা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে। কর্মকর্তা-প্রশাসনের এমন উদ্যোগ নদী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে—নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও আরও কঠোর হবে।