সারাদেশ

বিয়ের প্রলোভনে ঢাকায় নিয়ে ধর্ষণ, তবে স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন তরুণী!

প্রিন্ট
বিয়ের প্রলোভনে ঢাকায় নিয়ে ধর্ষণ, তবে স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন তরুণী!

প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর ২০২৫, রাত ১১:৫০

বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের নাইশিমুল গ্রামে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক তরুণী ও মোকাদ্দেস নামের এক ব্যক্তির সম্পর্কের জটিল গল্প। বিয়ের প্রলোভনে প্রায় এক বছর ঢাকায় রেখে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছেন ওই তরুণী। তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তরুণীটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং অভিযুক্ত মোকাদ্দেসের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হলেও তিনি স্বেচ্ছায় মোকাদ্দেসের সঙ্গে ঢাকার বাসাবো এলাকায় চলে যান। সেখানে প্রায় এক বছর স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বসবাস করেন তারা।

অভিযুক্ত মোকাদ্দেস তিন সন্তানের জনক এবং ওই তরুণী এক সন্তানের জননী। বিবাহ বহির্ভূতভাবে সংসার করতে গিয়ে বারবার বিয়ের জন্য চাপ দিলে মোকাদ্দেস অস্বীকৃতি জানান। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।

বছর খানেক পর তারা নিজ এলাকায় ফিরে এলে মোকাদ্দেস প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় মোকাদ্দেস আত্মগোপনে চলে যান। পরে তরুণীর মা ২২ অক্টোবর শেরপুর থানায় মেয়ে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জোরপূর্বক আটকে রাখা ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে মোকাদ্দেসসহ ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়।

তবে অনুসন্ধানী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ভুক্তভোগী, তার মা কিংবা মোকাদ্দেস—কেউকেই পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর উভয়পক্ষই আত্মগোপনে চলে যায়।

এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. মঈনুদ্দীন জানান ,

“ঘটনাটি ঢাকার বাসাবো এলাকায় ঘটেছে। এটি শতভাগ সত্য হলেও এলাকাটি আমাদের থানার আওতাধীন নয়। তাই আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভুক্তভোগী চাইলে ঢাকায় মামলা করতে পারেন। ২৩ অক্টোবর থানা জিম্মানামার মাধ্যমে তরুণীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,

“কে বা কারা, কিসের স্বার্থে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”