সারাদেশ

রাজনৈতিক বক্তব্য যখন "ধর্মভিত্তিক" দলগুলোর বিরুদ্ধে যায় তখন তাঁরা আমাদের কথাগুলোকে "ইসলাম বিদ্বেষ, বলেন এনডিএর মহাসচিব মোমিনুল আমিন

প্রিন্ট
রাজনৈতিক বক্তব্য যখন "ধর্মভিত্তিক" দলগুলোর বিরুদ্ধে যায় তখন তাঁরা আমাদের কথাগুলোকে "ইসলাম বিদ্বেষ, বলেন এনডিএর মহাসচিব মোমিনুল আমিন

ছবি : মোঃ আলামিন মির


প্রকাশিত : ৩ অক্টোবর ২০২৫, রাত ১১:২৩

আমাদের রাজনৈতিক বক্তব্য যখন "ধর্মভিত্তিক" দলগুলোর বিরুদ্ধে যায় তখন তাঁরা আমাদের কথাগুলোকে "ইসলাম বিদ্বেষ" বা

"ইসলামিক দল বিদ্বেষী" এভাবে ন্যারেটিভ দাঁড় করায়।।


প্রশ্ন হলো ইসলামিক দল কারা? সহজ কথায় উত্তর দিতে গেলে "ইসলামিক দল" বলে কোন Concept বা Discourse ইসলামিক শরিয়াতে নেই৷ একজন মুসলিমের অন্তরে শাহাদাতের তামান্না থাকবে, সে ইবাদতের পাশাপাশি খেলাফতের জন্য চেষ্টা করবে এটা ঈমানের দাবি। কিন্তু এরজন্য স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল গঠন করতে হবে এধরণের ফতোয়া দেওবন্দ মাসলাকে আছে বলে জানা নেই। তবে অঞ্চলভিত্তিক খেদমতের কৌশল সংশ্লিষ্ট এলাকার জমহুর উলামায়ে কেরাম নির্ধারণ করবেন।


বাংলাদেশে যাদের ইসলামিক দল বলে মানুষ চিনে তাঁরা মূলত ধর্মভিত্তিক দল বা তাঁদের নেতারা নিজেদের ব্যক্তি জীবনে মেনে চলা ইসলামিক অনুশাসন এবং তাহজিব-তমুদ্দিন তাঁরা নিজেদের সংগঠনের মাধ্যমে সমাজে বাস্তবায়িত করতে চায়। এরা বাংলাদেশের প্রচলিত সংবিধান, আইন-কানুন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা মেনে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে এবং নির্বাচনে অংশ নেয়। 


সুতরাং মূলধারার অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতই তাঁরা একধরণের প্রচলিত রাজনৈতিক সংগঠন আর তাই এদের বিরোধিতা বা সমালোচনা করে দেয়া বক্তব্য কোন অবস্থাতেই "ইসলাম বিদ্বেষ" বা "ইসলামিক দল বিদ্বেষী" বক্তব্য নয়। এই দলগুলোর নেতৃত্বে অনেক যোগ্য আলেম থাকতে পারে কিন্তু তারজন্য এই সংগঠনগুলোকে "ইসলামিক দল" হিসাবে শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। 


ইসলামিক খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হলে কিন্তু স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারা বা দল থাকারও কোন সুযোগ নাই৷ সবাই তখন রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একীভূত হয়ে যাবে। ক্ষমতায় গেলে সংবিধানকে বাতিল করে এই ব্যবস্থা চালু করবে এমন প্রতিশ্রুতি কি ধর্মভিত্তিক দলগুলো আজপর্যন্ত নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করতে পেরেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর তাঁরা পরিষ্কার না করলেও "পি আর পদ্ধতির নির্বাচন চাই" এই দাবি নিয়ে এরা এখন রাজপথে! সত্যিই আজব।


দেশের প্রচলিত নির্বাচনী এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনীতিতে অংশ নিয়ে "ইসলামিক শাসন" প্রতিষ্ঠা করার পদ্ধতি নিয়ে উলামায়ে কেরামের মধ্যে এখতেলাফ আছে। সেই বিতর্কে না যেয়ে আমরা ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই মূল্যায়ন করতে চাই যদিও দলগুলোর নিজস্ব গঠনতন্ত্র বা ঘোষণাপত্রে শরিয়া আইনের কথা বলা আছে।


ইসলামকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক বক্তব্যকে কাউন্টার না করাই শ্রেয়। এতে না রক্ষা হয় শরিয়াহ আর না রাজনীতি। রাজনৈতিক বক্তব্যকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবেলা করতে না পারার ব্যর্থতাই বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে এখনো ক্ষমতায় যাবার মত জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারে নাই।


মোমিনুল আমিন 

মহাসচিব, এনডিএম




প্রতিবেদন মোঃ আলামিন মির