সারাদেশ

কাপাসিয়ায় শাল-গজারি ভর্তি ট্রাক জব্দ, আবারও বন উজার বিতর্কের কেন্দ্রে হারুন সিকদার।

প্রিন্ট
কাপাসিয়ায় শাল-গজারি ভর্তি ট্রাক জব্দ,  আবারও বন উজার বিতর্কের কেন্দ্রে হারুন সিকদার।

ছবি : মো: সিরাজুল ইসলাম


প্রকাশিত : ১ অক্টোবর ২০২৫, রাত ৯:৫৬

কাপাসিয়ায় শাল-গজারি ভর্তি ট্রাক জব্দ,  আবারও বন উজার বিতর্কের কেন্দ্রে হারুন সিকদার।

><p>ছয়টি রেঞ্জের অধীনে ২৮টি বিট নিয়ে ঢাকা বনবিভাগ। এর মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর রেঞ্জাধীন গোসিংগা বিটের অধীনস্থ কাপাসিয়ার দরদরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাল-গজারি গাছ ভর্তি একটি ট্রাক জব্দ করেছে বন বিভাগ।            <div class=

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের দরদরিয়া এলাকা থেকে অবৈধ ভাবে পাঁচারের উদ্দেশ্যে শাল-গজারি গাছ একটি ট্রাকে লোড হওয়ার খবর পেয়ে বৃষ্টি বেজা রাত সারে তিনটার দিকে অভিযান চালিয়ে ২৫ ফুট লম্বা ৭০ পিচ গজারি গাছ ভর্তি একটি ট্রাক জব্দ করে গোসিংগা বিট অফিসে নিয়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান।

রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান জানান, বনদস্যুরা দিনকেদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এরা প্রকৃতির ভারসাম্য বিনষ্টকারী। রাতের অন্ধকারে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধভাবে পাচার উদ্দেশ্যে সবুজ বন উজাড় করে দিচ্ছে বন খেকোরা। সবুজ বন আমাদের অক্সিজেন দেয়। এরা অক্সিজেনের কারখানাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বুধবার দিবাগত রাতে পারমিট বিহীন জোতভূমি থেকে কেটে আনা অবৈধভাবে পাচারকালে ৭০ পিচ শাল-গজারি ভর্তি (ঢাকা মেট্টো-ট – ১৫-৯৭৩৩) সিরিয়ালের একটি ট্রাক জব্দ করে গোসিংগা বিট অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে বলে তিনি তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

খোঁজনিয়ে জানাগেছে, একটি মাডার মামলা সহ একাধীক বন মামলার আসামি হারুন সিকদার ৭০ পিচ শাল-গজারি গাছ ট্রাক যোগে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে গজারি গাছ ভর্তি ট্রাকটি জব্দ করেছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা। এর আগে জুলাই আন্দোলনের পর প্রহেলা মার্চের দিবাগত রাতে রেঞ্জ কর্মকর্তার নির্দেশনায় ৫০৭ দাগের সরকারি বনের জায়গা থেকে কেটে আনা ৭০ পিচ সরকারি বনের গাছ ভর্তি [ঢাকা মেট্রো-ট, ১৫-৯৯০৬] সিয়ালের একটি কাবারভ্যান গাড়ি জব্দ করে গোসিংগা বিট অফিসে নিয়ে যান গোসিংগা বিট ফরেস্টার হাবিবুর রহমান। কিন্তু ওই সময় অদৃশ্য শক্তির কারণে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি সবুজ বন অবৈধভাবে কেটে বহুসংখ্যক শাল-গজারি গাছ পাচার করেছেন হারুন সিকদার ওরফে বনদস্যু ফ্যাসিস্ট দোসর হারুন।

একাধিক স্থানীয়রা জানান, হারুন সিকদার আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর। তার বিরুদ্ধে একটি মাডার মামলা সহ কয়েকটি বন মামলা রয়েছে। মাডার মামলায় জেলও খেটেছে। কার নেতৃত্বে এখনো সে গজারি গাছের অবৈধ ব্যবসা করছে? তাকে কে লিড দিচ্ছে? তবে তারা জানিয়েছেন অন্তরালে হয়তোবা প্রভাবশালী মহলের কেউ কেউ তাকে লিড দিচ্ছে। যে কারণে সে ফ্যাসিস্ট হয়েও সাহসের সাথে সবুজ বন উজাড় করছে এবং পাচার করেছে শাল-গজারি গাছ। দেশ থেকে সকল ফ্যাসিস্ট পালিয়ে গেলেও সে দিব্যি ঘুরছেন। ফ্যাসিস্টের আমলে সোহেল তাজ ও তার বোন সিমিন হোসেন রিমির ভয় দেখিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় অনেককে হয়রানি করেছে এই হারুন সিকদার।

তার ভাই রেহান উদ্দিন সিকদার মোবাইল ফোনে এক কথোপকতনে জানিয়ে ছিলেন, হারুন মদ খেয়ে আবুল তাবুল করে, কখন কারে কি কয় সে নিজেও জানে না। মাতাল থাকে সবসময়। কল রেকর্ডটি সংরক্ষিত রয়েছে। অনেকেই বলেন, দৈনিক রুটিন মাফিক মদ্য পান করে হারুন।
অভিযান পরিচালনায় গোসিংগা বিট ফরেস্টার হাবিবুর রহমান ও অন্যান্য স্টাফরা সহযোগিতা করেছেন বলে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান জানিয়েছেন।