ছবি : শান্তিগঞ্জে খাস জমি সাফ-কবালা বিক্রী করে গ্রাহকের সাথে প্রতারণা
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া গ্রামে সরকারি খাস খতিয়ানের জমি অবৈধভাবে সাফ-কবালা বিক্রী করায় সরকারের পক্ষে প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়া প্রতিবাদ করায় পাথারিয়া বাজারস্থ প্রবাসীর রেকর্ডীয় ভূমিতে নির্মাণাধীন মার্কেটের ভূমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগপত্র ও স্টাম্প মাধ্যমে জানা যায়, গত ২১/০২/২৪ইং তারিখে পাথারিয়া মৌজার ১৬ নং জেএলস্থিত খাস খতিয়ানের জমি গ্রামবাসীর পক্ষে সরকারের প্রতিনিধি সেজে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে স্থানীয় মাতাব্বর আ.লীগ ফ্যাসিবাদ নেতা তারা মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম,সবদল মিয়া, রফিক মিয়া, মশাহিদ আলী, আব্দুল অদুদ, সামছুউদ্দীন, সাদিক আলী, রাজ্জাক মিয়া, জাবেদ মিয়া, মতিউর রহমান, আব্দুল হাই, তাজুল ইসলাম, ইজাজুল, আরমান আলী, হাবিবুর রহমান, নুর মিয়া মেম্বার, আলী আহমদ, রাসেল মিয়া গংরা নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকায় পাঁচ শতাংশ জমি অবৈধভাবে সাফ-কবালা বিক্রি করেন পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম তারিফ উল্লার ছেলে ভূমিখেকো গ্রহীতা নুরুল আমিনের কাছে। সরকারি জমি অবৈধভাবে নুরুল আমিনের কাছে বিক্রি করায় প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়া এর প্রতিবাদ করায় ওই চক্রটি তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগে তার মার্কেটের একটি ঘর ভেঙে দিন দুপুরে দখলে নেয়।
লালন মিয়া বলেন, আমি প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়ার নির্মাণাধীন মার্কেটের ঠিকাদার ছিলাম। মার্কেট মেরামতের জন্য মালামাল প্রস্তুত করার পর নুরু মিয়া মেম্বার-মেরামতে বাঁধা প্রদান করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। পরে আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন পঞ্চাশ হাজার টাকা দিলে নুরু মিয়া, বিএনপি নেতা হাজী আব্দুল মমিন মনির মিয়া সেখানে ঘর নির্মাণ করে দেবেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়া বলেন, আমি দেশে থাকাবস্থায় তারা মিয়া,আব্দুল কাইয়ুম, নুর আলী মেম্বার, রফিক আলী, সবদুল মিয়া, রাজ্জাক মিয়া গংরা একই গ্রামের নুরুল আমিনের কাছে সরকারি খাস খতিয়ানের পাঁচ শতাংশ জমি নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকায় অবৈধভাবে সাফ-কবালা বিক্রি করার সময় আমি প্রতিবাদ করলে পাথারিয়া বাজারে আমার রেকর্ডীয় মার্কেটের দোকানঘর ভেঙে দখল নেয়। পরবর্তীতে নুরু মিয়া মেম্বার গংরা আমাকে বলেন নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা আমাদেরকে দিলে দখলকৃত ভূমিতে পূনরায় স্থাপনা নির্মাণ করে দিব। আমি তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণে আজও আমার রেকর্ডীয় ভূমি তাদের দখলে থাকায় আমি বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করার পর আদালত কোর্ট কমিশনের মাধ্যমে সরেজমিনে এসে ভূমি পরিমাপ করে বাজার কমিটির উপস্থিতিতে লাল প্লেগ সাটিয়ে পূনরায় ভূমি সমজিয়ে দেয়। কিন্তু ওই চক্রটি আবার দখল নেয়। আমার মার্কেটের কিছু ভূমি সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফার জামাতা ও বিএনপি নেতা হাজী আব্দুল মমিন মনিরের বাতিজির জামাই আসাদ আবেদীন এর স্থাপনার ভেতরে ডুকার কারণে আসাদ আবেদীন কোর্ট কমিশনের কাছে দুই দিন সময় নিয়েছেন নিজ খরচে স্থাপনা ভেঙে দেবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল মোস্তফা তার ভাই প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মমিনের ইন্ধনের কারণে আজও স্থাপনা ভেঙেনি আসাদ আবেদীন। আমাদের ছয় গোষ্ঠীর গ্রাম পাথারিয়া। ছয় গোষ্ঠীর সমর্থনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে পাথারিয়া ১নং ভোট কেন্দ্রে ১৫৩১ ভোটের মধ্যে আমি পেয়েছি ১৫শত ভোট এবং প্রতিদ্বন্ধী স্বতন্ত্র তিনজন প্রার্থী পেয়েছেন ৩১ ভোট। অপর দিকে ছোয়াব আলী সাহেব মুতায়াল্লি থাকাকালিন সময়ে মসজিদ কমিটি নিয়ে হট্রগোল সৃষ্টি হলে ছয় গোষ্ঠীর লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাকে প্রস্তাব দেয় আপনি
মসজিদের মুতায়াল্লির দ্বায়িত্ব নেন। পরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর হুসেনসহ ছয় গোষ্ঠীর লোকজন মিলে মসজিদে বসে আমাকে মুতায়াল্লি বানানো হয়। তারপর হাজী আব্দুল মমিন মনিরের বাসায় গিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা ও মতিউর রহমানের উপস্থিতিতে সাবেক মুতায়াল্লি ছোয়াব আলী সাহেব আমার কাছে সাত লক্ষ টাকার চেক এবং নগদ ২৩৯১ টাকা হস্তান্তর করেন। এদিকে নির্বাচনের প্রায় দেড় দুই মাস পর ভুমি বিক্রেতা চক্রসহো কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী মিলে ছোয়াব আলী সাহেবের বাড়ির সামন থেকে এক অসহায় কৃষকের ৫টি গরু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়ার পর চক্রটি সহ কিছু অসাধু লোকজন গ্রামের কান্দায় ২টি গরু জবাই করে ভাগ বন্টন করে খেয়ে ফেলার খবরে সেটি ব্যাপক ভাইরালের এক পযার্য়ে সেটির দ্বায়ভার দুষ্কৃতিকারীদের উপরে না গিয়ে আমার উপর দিয়ে ঝর যায়। ঐ ঘটনায় আমি সহ ৪/৫ জন ৮/১০ দিন কারাবাস করতে হয়েছে। অথচ গরু জবাইয়ের বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। তবুও অপরাধী হয়ে জেল কাটতে হয়েছে। আমি জেল হাজতে থাকাবস্থায় আমাকে নিয়ে তারা মামলা বানিজ্য শুরু করেছিল। মসজিদে অজুর ব্যবস্থা না থাকায় আমি সবার সম্মতি নিয়ে অজুখানা এবং বাথরুম নির্মাণ করেছি। পূর্ব বিরোধের জেরে মসজিদের উত্তর পার্শ্বের চলাচলের বন্ধ রাস্তা উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করে গেইট খুলে দিয়েছি। মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ ও জানাজার ভূমিদাতা আমার বাবা ছিলেন। আমি প্রবাসে যাওয়ার আগে গ্রামের লোকজনকে বার বার বলেছি আমি চলে যাব মুতায়াল্লির দ্বায়িত্ব অন্য কাউকে দেন। কিন্তু তখন তারা বার বার বলেছেন আপনি চলে যান সমস্যা হবে না আমরা আছি। পরবর্তীতে ছয় গোষ্ঠীর ছয়জন এবং ইমাম জয়নুল ইসলামকে মসজিদের দ্বায়িত্ব দিয়ে দেশ ত্যাগ করি। মসজিদের সঞ্চিত টাকা লুটেপুটে খাওয়ার জন্যই
কিছুদিন যেতে না যেতেই লুঠেরা প্রকৃতির কিছু সংখ্যক লোক নতুন মুতায়াল্লি বানিয়ে ইমাম জয়নুল ইসলামকে চাকুরীচ্যুত করে নতুন ইমাম নিয়োগ করে আমাকে আত্মসাৎকারী আক্ষ্বায়িত করেছে। মূল কারণ হল আমি দ্বায়িত্বে থাকাবস্থায় তারা কোন ধরনের অনৈতিক সুযোগ সুবিধা পায়নি বলেই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, হাজি আব্দুল মমিন মনির, নুর মিয়া গংরা। আমাদের গ্রামের উন্নয়নের নামে সমিতি গঠন করে সরকারি খাল, বিল, দিঘি অবৈধভাবে লীজ সহ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, দখলবাজী, খাস জমি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা উর্পাজন করে পাথারিয়া বাজারস্থ কৃষি ব্যাংকে ছয় গোষ্ঠীর মাতাব্বরদের নামে।
যৌথ একাউন্ট করে প্রায় ৫০/৬০ লক্ষ টাকা জমা রাখা হয়। কিন্তু আমি যখন দেখলাম কাজে অকাজে সমিতির টাকা লুটপাট শুরু হয়েছে ঠিক তখনি লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। এ কারণেই আমি তাদের পথের কাটা হয়ে গেছি। আমি তাদেরকে পরিস্কার ভাবে বলেদিয়েছি যে আমার কাছে নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা জমা আছে। দেশে এসে সবাইকে ডেকে ওই টাকা কমিটিকে সমজিয়ে দেব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, আমাদের গ্রামে নদীয়াকারা, হুমেরকারা, দিঘি, ধলা ও চাতল সহ সরকারি অনেকগুলো বিল রয়েছে। সেগুলো ঐ চক্রটি গ্রাম থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ২৫/৩০ হাজার টাকায় লীজ নিয়ে একেকটি ৫/৬ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে সরকারকে রাজস্ব না দিয়ে নিজের পকেট ভারি করছেন। এদিকে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে
সাফ-কবালা বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন অনেকেই। ওদের বিরুদ্ধে গ্রামের কেউ প্রতিবাদ করতে.ভয়.পায়।
এ বিষয়ে প্রবাসী সামছুল ইসলাম রাজা মিয়া ঐ প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ করায় উনার রেকর্ডীয় দোকান রকম কিছু ভূমি জবরদখল করে নিয়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুমের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রং নাম্বার বলে ফোন রেখে দেন। তাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মতামত