সারাদেশ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে আবারো মহাসড়ক অবরোধ, ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

প্রিন্ট
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে আবারো মহাসড়ক অবরোধ, ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশিত : ৩ আগস্ট ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:২০

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:সবুর

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে আবারো উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজাদপুর। প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মহাসড়কে নেমে আসে বিক্ষোভে।

রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শাহজাদপুরের বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে দুই ঘণ্টার কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় জনগণ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

দাবির পক্ষে শিক্ষক সমাজের বক্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ইয়াতসিংহ শুভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—

"একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পরও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আজ পর্যন্ত নিজস্ব ক্যাম্পাস নেই, নেই স্থায়ী ভবন। আমরা নয় বছর ধরে অবহেলার শিকার। সরকারের অমনোযোগী মনোভাব শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত।"

তিনি আরও বলেন,

"ঢাকার বাইরে বলেই কি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না? একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে এভাবে অবহেলা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"

আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ

অবরোধ চলাকালে বক্তারা বলেন—দীর্ঘদিন ধরে ডিপিপি (Development Project Proposal) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু সরকারের টালবাহানায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

"কেন ক্যাম্পাসের জন্য শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হবে?"—এমন প্রশ্নও তোলেন তারা।

আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এ সময় তারা আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত টানা সাত দিনব্যাপী মহাসড়কে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

অবরোধের সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা

২০১৬ সালের ২৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে চলছে ভাড়া করা ভবনে। শাহজাদপুর মহিলা কলেজ, সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া কলেজ এবং দুটি ভাড়া বাড়িতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সঙ্গীত ও ব্যবস্থাপনা—এই পাঁচটি বিভাগে প্রায় ১,২০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। রয়েছে মাত্র ৩৪ জন শিক্ষক, ৫৪ জন কর্মকর্তা এবং ১০৭ জন কর্মচারী।

স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রকল্প নিয়ে জটিলতা

২০১৬ সালে শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ২২৫ একর জমি বরাদ্দ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ১০০ একর জমিতে ৫১৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠায়। এ প্রস্তাব বর্তমানে একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সম্প্রতি ১৬ জুন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে ফিরে গিয়ে ওই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস না করার প্রস্তাব দেন। এর পর থেকেই অনুমোদনের বিষয়টি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিনের আন্দোলন 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় নয় বছর পার হলেও এখনো নিজস্ব ভবন না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তারা জানিয়েছে, এবার যদি প্রকল্প অনুমোদন না হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।