স্বাস্থ্য

বাংলাদেশে ফ্যাটি লিভার রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে

প্রিন্ট
বাংলাদেশে ফ্যাটি লিভার রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে

ছবি : ফ্যাটি লিভার


প্রকাশিত : ২ আগস্ট ২০২৫, রাত ২:৫৮

শিহাবুল্লাহ মারুফ:

বাংলাদেশে নীরব ঘাতক হিসেবে ফ্যাটি লিভার এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং কম শারীরিক পরিশ্রম—এই তিনটি মূল কারণেই বাড়ছে ফ্যাটি লিভার রোগের প্রকোপ।

কি এই ফ্যাটি লিভার?

ফ্যাটি লিভার (Fatty Liver Disease) হলো এমন এক অবস্থা, যখন লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়। সাধারণত ৫%-১০% এর বেশি চর্বি জমলে তা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এটি দুই ধরনের হয়:

  • নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD)
  • অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (AFLD)

বাংলাদেশে বেশি দেখা যাচ্ছে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার, যেটি মূলত খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইলের কারণে হয়।

ফ্যাটি লিভারের উপসর্গ

প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিতে পারে:

  • পেটের ডান পাশে ভারী ভাব
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • দুর্বলতা ও ক্লান্তি
  • বমিভাব
  • কখনো কখনো জন্ডিস

বিপদ আরও বাড়ে যখন…

চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, যদি সময়মতো ফ্যাটি লিভার ধরা না পড়ে, তাহলে তা সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের দিকে গড়াতে পারে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের জন্য এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

কাদের বেশি ঝুঁকি?

  • স্থূলকায় ব্যক্তি
  • যাঁরা নিয়মিত ফাস্টফুড খান
  • যাঁরা দীর্ঘসময় বসে কাজ করেন
  • ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রোগী
  • ধূমপান বা মদ্যপান করেন

প্রতিরোধ ও করণীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। যেমন:

  • নিয়মিত ব্যায়াম করা
  • সুষম ও কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া
  • মিষ্টি বা সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলা
  • পর্যাপ্ত পানি পান
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ

চিকিৎসকদের পরামর্শ

লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, “বাংলাদেশে ৪ জনে ১ জন ব্যক্তি ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। কিন্তু অনেকেই জানেন না, কারণ এটি প্রাথমিক অবস্থায় বোঝা যায় না। সময়মতো চিকিৎসা নিলে রোগ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।”