রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের ধুলদি লক্ষীপুর গ্রামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অপবাদ দিয়ে এক গৃবধূর কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তের দাবি, জোর করে আদায় করা হয়নি; মিষ্টি খাওয়ার জন্য ওই গৃহবধূ
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছা. মেহেরুন নেছা। তিনি ধুলদি লক্ষীপুর গ্রামের মো. মিজান শেখের স্ত্রী।
অভিযুক্তরা হলেন- ধুলদি লক্ষীপুর গ্রামের মৃত কুটি খানের ছেলে মো. ইসলাম খান (৫০) ও একই গ্রামের মৃত শিরাজ খানের ছেলে মো. সোহেল পারভেজ ওরফে এসপি (৪০)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গৃহবধূ মোছা. মেহেরুন নেছা বলেন, গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০ টার দিকে আমার খালাতো ভাই রুবেল মৃধা তার প্রেমিকা পপি আক্তারকে নিয়ে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসে। ওইদিন রাতেই ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক স্থানীয় মসজিদের ইমাম দিয়ে তাদের বিয়ে পড়ানো হয়। পরে তাদের কাবিন রেজিস্ট্রিও করা হয়। কিন্তু গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে আমি খলিলপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় স্থানীয় ইসলাম ও এসপি আমাকে রাস্তায় দাঁড় করায়। এসময় তারা আমার খালাতো ভাই ও তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্য করে এবং তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে অপবাদ দেয়। আমি কেন তাদের আমার বাড়িতে রেখেছি এজন্য আমাকে হুমকিও দেয়।
আরও পড়ুন: নকশা অমান্য করে একের পর এক বহুতল ভবন, চরম দুর্ভোগে রাজবাড়ীর জনজীবন
এরপর আমি সেখান থেকে আমার বাড়িতে চলে আসি। এর কিছুক্ষণ পর ইসলাম ও এসপি তাদের দলবল নিয়ে আমার বাড়িতে এসে আমার নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি তাদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তারা আমাকে মারপিট করে খুন করার হুমকি দেয়। তখন আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাইলে তারা জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে নগদ ২৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দেই।
মেহেরুন নেছার খালাতো ভাই রুবেল মৃধা বলেন, ‘আমি প্রবাসে ছিলাম, সম্প্রতি দেশে এসেছি। গত ২৫ আগস্ট আমি আমার প্রেমিকা পপিকে আমার খালাতো বোন মেহেরুন নেছার বাড়িতে এনে বিয়ে করি। এই বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে আমরা এখানে কিছুদিন রয়েছি। কিন্তু এই এলাকার ইসলাম ও এসপি তাদের লোকজন নিয়ে এই বাড়িতে এসে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ দেয়। পরে তারা জোর করে আমার খালাতো বোন মেহেরুন নেছার কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. গোলাম রাব্বি বলেন, ‘গত ২৫ আগস্ট রাত ৮ টার দিকে আমি মেহেরুন নেছার বাড়িতে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী রুবেল মৃধা ও পপি আক্তারের বিয়ে পড়াই। পরে তারা কাবিন রেজিস্ট্রিও সম্পন্ন করেন। তারা ধর্মীয় ও আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী। অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে টাকা আদায় করাটা খুবই দুঃখজনক।’
আরও পড়ুন: ২৫ পরিবারের সড়কে প্রভাবশালীর দেয়াল, গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মেহেরুন নেছার বাড়িতে একটি ছেলে একটি মেয়ে নিয়ে আসে। এ খবর পেয়ে আমি ও এসপি মেহেরুন নেছাকে রাস্তায় পেয়ে ওই ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয়ার জন্য বলি। পরে তার বাড়িতে গিয়েও ওই ছেলে-মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দেয়ার জন্য বলি। এসময় মেহেরুন নেছা খুশি হয়ে মিষ্টি খাওয়ার জন্য আমাদের চার হাজার টাকা দেয়। আমরাও মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকাটা নিই। আমরা তার কাছ থেকে জোর করে কোন টাকা আনিনি।’
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি মোঃ আলামিন মির
মতামত