সম্পাদকীয়

একটি ইতিহাস দূষণ এবং মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামীলীগীকরণ

প্রিন্ট
একটি ইতিহাস দূষণ এবং মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামীলীগীকরণ

প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:৫৪

' মুক্তিযুদ্ধ ' আসলে কার? এটা কি একটি দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন?  নাকি পুরো জাতির সম্মিলিত অর্জন? এই দুটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের অভাবে আজ ৫৩ বছরেও দেশ স্থিতিশীল হতে পারেনি। পায়নি সত্য স্বাধীনতার স্বাদ। 

সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক ময়দানের অস্থিরতা এবং দল সমূহের মৎসান্নায় পরিস্থিতিতে দেশের শান্তিপ্রিয় নাগরিক সমাজ একটি মারাত্মক দোটানার মধ্যে পড়ে আছেন। বিভিন্ন মত পথ সমস্যা আর বলিষ্ঠ নেতৃত্বহীনতার বিশৃঙ্খলায় প্রত্যেকে মনে মনে একটি অস্বস্তিতে ভুগছে। এসময় সমাধান কি হবে বা হওয়া উচিত তা বুদ্ধিজীবি মহলের যথেষ্ট ভালো জানা রয়েছে। তবে বুদ্ধিস্তর কম থাকায় আমরা আমজনতারা বুদ্ধিজীবিদের উচ্চতর দেশভাবনা হয়তো টের পাচ্ছি না। এদিকে শান্তিও পাচ্ছিনা, কারণ দেশে ক্ষতিকর কিছু হলে তার প্রভাবটা সবসময় আমাদের ঘাড়েই পরে। তাই জনতার চোখে দেখা সমস্যাগুলোকে তাদের সামনে তুলে ধরতে কলম ধরা। 

২৪ এর গণআন্দোলন এর পর যে মানসিক বিপ্লব সাধন হয়েছে তাতে দেশের বিষয়ে প্রায় নিরুৎসাহিত মানুষগুলোও আর একবার দেশের জন্য স্বপ্ন দেখার, দেশ নিয়ে ভাবার এবং দেশের স্বার্থে দুটো সঠিক কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। দেশ ও জাতির প্রশ্নে আপোষহীন মানুষগুলোর সর্বাত্মক যে প্রচেষ্টা চারদিকে, মিডিয়ায় প্রকাশ পাচ্ছে তা যথেষ্ট আশা জাগানিয়া কিন্তু তার বিপরীতেও চলছে মারাত্নক একটি ষড়যন্ত্র যা শান্তিপ্রিয়দের গোপন ভয়ের কারণ বটে। 

সত্যি বলতে, আমাদের দেশ ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে দখলগত স্বাধীনতা পেলেও রাজনৈতিক এবং মানসিক স্বাধীনতা আজও লাভ করতে পারেনি। এখনও এই ২০২৫ সালে এসেও এদেশের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে মিথ্যা তথ্য বিশ্বাস করনো সম্ভব হচ্ছে ! কি মারাত্মক দুর্বলতা!! একটি জাতি হিসেবে আমরা এখনো আমাদের নিজস্বতা অর্জন করতে পারিনি। আর আমাদের মধ্যে যারা এবিষয়ে সবচাইতে সঠিক পথে আছেন তাদেরকেও কোন একটি অজ্ঞাত শক্তি একঘরে করে রেখে দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত আর হতাশার কথা এটা যে, আমরা সাধারণ জনতার একটি বড় অংশ বিষয়টি কোনভাবেই গভীর বিবচনায় নেয়ার চেষ্টা করছি না বরং মিথ্যাগুলো আরো লালন করতে অদ্ভুদ একরকম কুসংস্কারমূলক প্রবৃত্তি প্রকাশ করছি।!!

তাই একটা কথা বার বার মনে হচ্ছে যে আমরা কি কোন অপশক্তির দ্বারা আজীবনের জন্য ওয়াশ প্রাপ্ত কিনা?? আমরা কি কোন গোলক ধাধার মধ্যে আছি?? 

আসুন, একটু ধাপে ধাপ এ বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করি। পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে আমাদের আপোষ হয়নি তাই মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এখন মুল বিষয় হল, পটভুমিটা কি একদিনে প্রস্তুত হয়েছে? লাহোর প্রস্তাব কি ছিলো? কাগমারি সম্মেলন কেন হয়েছিলো?  এই মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নেতা কি শুধু শেখ মুজিব? আর কি কোন ব্যক্তি, কোন নেতাদের কোন অবদান নেই? এরপর এদেশের আপামর মানুষ, সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধারা, যুদ্ধা অংশগ্রহণ করার সেনা অফিসাররা, বিভিন্ন বাহিনীর যোদ্ধারা, বুদ্ধিজীবীরা কই তাদের নিয়ে তো আমাদের ইতিহাসের তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা বা অধ্যায় নেই। অথচ তিনি যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন যুদ্ধের ময়দানে তিনি সশরীরে কোন অবদান রাখেননি। একটি ভাষণ দিয়েছেন তাও আবার মোটামুটি অপ্রস্তুত হয়েই। মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা যদি দেখেন তাহলে খুব স্পষ্ট একটা জলছাপ দেখা যায়, আর তা হলো, "শেখ মুজিবর রহমান কেবলমাত্র পূর্বপাকিস্তানের শ্বায়ত্বশাসন চেয়েছিলেন তিনি এমনকি ইন্ডিয়ার ইশারা পাওয়ার পরেও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে সন্ধিহান এবং হিসাব কষায় ব্যাস্ত ছিলেন।" কেননা, যার বক্তব্য দেশ স্বাধীন করতে পারে তাকে পাকিস্তানে নিয়ে দুধ কলা দিয়ে পুষে রাখার এমন কি দরকার ছিলো পাকিস্তানিদের? কেন তাকে হত্যা করা হলো না??

কারণ মূলত এখানে মুজিবর রহমান স্বভাবসুলভভাবেই একটি ডুয়েল গেম খেলেছিলেন। যাতে ভারতের হাত দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশই হোক কিংবা পাকিস্তানের হাত দিয়ে স্বায়ত্বশাসনই হোক একমাত্র দেশ বা প্রদেশ প্রধান যেনো তিনিই থাকতে পারেন। সহজ ব্যপার,  বাঙালি যদি যুদ্ধ করে জিততে পারে তাহলে তিনি ভাষণের ক্রেডিট নিবেন আর যদি জিততে না পারে তাহলে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানকে তার জনপ্রিয়তা এবং গুরুত্ব বোঝাতে সক্ষম হবেন। খুবই সতর্ক রাজনৈতিক আচরণ। অথচ যারা এটাকে জীবন-মৃত্যুর সমীকরণে সাজিয়েছিলেন তারাই গুরুত্ব কম পেলেন মুক্তিযুদ্ধের নায়ক হয়ে ওঠার সুযোগও পেলেন না।

 আর আমাদের গলাকাটা ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে কেবলমাত্র শেখ মুজিবের কথাই দেখা যায়। এতো গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস থেকে মুক্তিযুদ্ধের আসল পথিকৃৎ ১৯৫৫-৫৬ তে প্রকাশ্যে স্বাধীনতার কথা বলা মাওলানা ভাষানী (ভারত বিরোধী) কোথায় হারালেন? জেনারেল ওসমানি কেন হারিয়ে গেলেন? তাজউদ্দীন কেন নিষ্প্রভ হয়ে গেলেন? জিয়াউর রহমানের কোন দাম কেন ছিলনা? বাংলাদেশের মাতুব্বর হিসেবে ইন্ডিয়া সর্বময় গুরুত্ব কেন পেলো? আর কি বিশেষ বদনজরের কারণে পরবর্তী ৫৩ বছরেও উন্নত হতে পারলো না দেশ? এসবের কোন সদুত্তর আমাদের জানা নেই। কি হয়েছিলো দেশে ১৯৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত? আমরা কি কখনো ঘেটে দেখেছি?  ৯০% সাধারণ মানুষ কেবল মাত্র জানেন মুক্তিযুদ্ধ মুজিবর রহমানের কথায় হয়েছিলো এবং আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ধারক ও বাহক!! তাহলে তখন কি দেশে আর কোন দেশপ্রমিক দল ছিলো না? দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব ছিলেন না? কেন তারা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারলেন না? আর যদি শেখ সাহেবই একমাত্র নেতা হতো তাহলে তার বিরুদ্ধে এতো গুঞ্জন কেন উঠলো..?.. অসন্তোষ কেন দানা বাঁধলো..?..রাজনীতির পরিমণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কেন মুজিববিরোধী হয়ে উঠলেন..?..কেন মুজিবকে সপরিবারে অমানবিকভাবে হত্যা করার পরেও দেশের লোকজন শান্তভাবে সেটা মেনে নিলেন..?... এমন কি কেউ কেউ মিষ্টি বিতরণ করলেন..!!! আশ্চর্য তাইনা? 

এই প্রশ্নগুলো যদের মনে জাগেনি তারা আসলে মুক্তিযুদ্ধের ম' টাও জানেন না। আর তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কোন আবছা ধারনাও রাখেন না। অবশ্য সে দিক থেকে তাদেরকে কোন দোষারোপ করারও সুযোগও নেই কারণ মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করার বিনিময়ে ভারত যে নীলনকশা করে রেখেছিলো সেটা শুরু থেকেই বাস্তবায়ন করা হয় এবং পুরো জাতিকে একটা পরিকল্পিত ব্রইনওয়াশ ও মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে ভুলপথে পরিচালিত করা হয় । স্বাভাবিকভাবেই তখনকার দিনে, যখন শিক্ষিত লোকের সংখ্যা একবারেই কম ছিল এবং সাধারণ মানুষ খুবই সরল ছিল, তখনকার সময়ে এত রাজনৈতিক ঘোর প্যাচ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা লোক আসলেও খুব কম ছিলো। ফলে উচু পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেশের বেশিরভাগ লোকই জানতেন না। আর তার উপর নতুন দেশে ব্যাবসা,  চাকরি, কৃষি, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষাতে প্রচুর সমস্যা থাকায় জনগনের জীবিকা নির্বাহ করতেই প্রচুর বেগ পেতে হচ্ছিল সেখানে রাজনীতির খবর তো বিলাসিতা।

আর, যারা জানতেন এবং বুঝতেন তারাই হচ্ছেন ঐসব ব্যক্তি যারা শেখ মুজিব কতৃক যথেষ্ট অপমান ও জুলুমের শিকার হয়েছিলেন এবং অবশেষে নিরুপায় হয়ে দেশ ও জাতির কল্যানে শেখ মুজিব হত্যাকে চুপচাপ মেনে নিয়েছিলেন। তারা পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলেন যে শেখ মুজিব ইন্ডিয়ার দালালে পরিণত হয়েছে এবং তার রাজা রাজা খেলা এদেশকে ধ্বংস করে ফেলবে ( বাকশাল আর রক্ষীবাহিনী তারই নমুনা)। দেশকে নিজের সম্পত্তি আর মানুষকে প্রজাজ্ঞান করতে শুরু করা শেখ মুজিব ক্ষমতার চক্করে কাউকে কোন ছাড় দেবেন না এমন কি কোন ইনসাফও দেখাবেন না সেটা বুঝতে আর তাদের বাকি ছিল না। 

এভাবে ৭৫ এ শেখ মুজিবের অধ্যায় শেষ হলে মুক্তিযুদ্ধের ওয়ারিশ হিসেবে আওয়ামীলীগের একক আধিপত্য অনেকটাই হারিয়ে গেল। মূলত তখন থেকেই  সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক বই পত্রে দেশের ইতিহাসের মোটামুটি অবিকৃত কিছু তথ্য সংরক্ষিত হয়েছিল। 

(প্রসঙ্গের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আপনারা তৎকালীন সময়ের মুক্তিযুদ্ধের চাক্ষুশ সাক্ষীদের লেখা বইগুলো পড়তে পারেন।) 

এরপর ক্ষমতার পালাবদলে, আবার বাংলাদেশে এসে জুটলো স্বৈর-ক্যান্সারের আরেক জীবানু শেখ হাসিনা। আর এর পেছনের পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলো আমাদের চিরপরিচিত পিঠে ছুরি মারা শত্রু ভারত। এবার পূর্ণ উদ্যমে বাংলাদেশের ভিতরে প্রতিষ্ঠিত গুপ্তচর 'RAW' এর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু হয় এবং কিভাবে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আনন্তর্জাতিকভাবে ও আভ্যন্তরীনভাবে ধ্বংস করে চিরতরে ভারতের হুকুমের গোলাম করে রাখা যায় সেই জোর প্রচেষ্টা শুরু হয়। অপরদিকে উল্লেখ্য যে, এই সময়কালে কিন্তু পাকিস্তানের বাংলাদেশ নিয়ে তেমন কোন উদ্বেগ বা আগ্রহ কিংবা ষড়যন্ত্রমূলক তাৎপরতা দেখা যায়নি কারণ তাদের নিজেদেরই যা অবস্থা তাতে এদেশ থেকে একবার নাকানি-চুবানি খেয়ে বিতাড়িত হবার পর আবার নাক গলানোর পর্যায়ে তারা ছিলো না। তাছাড়া ১৯৪৭ এর পর থেকেই তাদের ব্যর্থ শাসন ব্যবস্থা, ইসলামের নামে দুর্নিতি এবং ভারসাম্যহীন রাজনীতি উভয় পাকিস্থানে  তাদের দুর্বলতা যথেষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছিলো। যার প্রমান হলো ৭১ এর পরাজয়। অথচ ভারত ১৯৪৭ এর পর থেকে এক মুহুর্তও বাংলাদেশের ওপর থেকে চোখ সরায়নি। 

অতঃপর, দেশে ফিরেই সকল প্রকার সিম্প্যাথী কুড়ানোর আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত হয় শেখ হাসিনা। এ সময়ে শেখ মুজিবের পরিণতি দেখে পালিয়ে যাওয়া ধান্দাবাজ আওয়ামী লীগ নেতারা আরেকটি নতুন সুযোগ পেয়ে গর্ত থেকে বেরিয়ে এলো। ১৯৯৬ এর নির্বাচনে চেতনা ব্যবসায়ী দলটি বিভিন্নপ্রকার নাটকের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ ভারতীয় মাস্টার প্ল্যান এর ব্যবহার শুরু করল। এ সময় কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কাজে লাগিয়ে পানি ঘোলা করা যায় সেই প্রচেষ্টা শুরু হলো। এসময় RAW-লীগ জোট দেশের মানুষ এবং নতুন জেনারেশান এর মাথায় ৩টি বিষয় বদ্ধমূল করতে আরাম্ভ করলো। 

এগুলো হলো:  'মুক্তিযুদ্ধ মানেই আওয়ামী লীগ',  'ভারত মানেই বন্ধু' এবং 'আওয়ামী লীগ বিরোধী মানেই রাজাকার'। প্ল্যানটা বেশ ভালোই সাড়া ফেলেছিলো এবং পাবলিকের একাংশ বুঝে বা না বুঝে বা নিরুপায় হয়ে সেটা খেয়েছিলো। আর এইবার ভারতীয় ভূতের বাহন হলো বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো। এদেরকে দিয়েই সুকৌশলে একটি ভারতীয় সংস্কৃতির ছবক দেয়া সুশীলচক্র তৈরি করা হয় যাদের মুলকাজ ছিলো বাংলাদেশের মানুষের ভেতর ধার্মিকতাকে মৌলবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে সভ্যবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু ইতিমধ্যে দেশে থাকা অন্যান্য দলগুলো আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা কিছুটা বুঝতে পেরে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সমর্থ হয়। এবং জনগণের সহায়তায় আওয়ামী লীগ নামক আপদকে আরেকবার ক্ষমতা হতে বিদায় করতে সমর্থ হয়। কিন্তু দেশে রয়ে যায় ভারতীয় গুপ্তচর 'RAW' এবং আওয়ামীলীগের বিষাক্ত বীজগুলি, যাদের ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে এবং পরিকল্পনায় ২০০৯ সালে আবার দেশের ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ। আর এবারে শুরু হয় আওয়ামী লীগের আসল আগ্রাসন। শুরু হয় স্বৈরাচারের আপডেট ভার্সন। পাল্টে যায় বই পত্রের সকল ইতিহাস। প্রত্যেকটি জায়গায় এবার শুধুমাত্র শেখ মুজিব এবং শেখ হাসিনা। এবারে নতুন জেনারেশানকে এরা একটা বড়ি পুরোপুরি খাওয়াতো সক্ষম হয় যে, মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের অর্জন এবং উত্তরাধিকার সুত্রে তারা মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র মালিক। এযাত্রায় মুক্তিযুদ্ধকে পুরোপুরি নিজেদের ক্রেডিট, নিজেদের অধিকার হিসেবে পরিচিত করে এবং নিজেদের দলীয় সকল অনাচারের আশ্রয়ঢালে পরিণত করে। সেই থেকে আমাদের জেনারেশান এর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ মনে মনে একটি অলস ধারণার লালন করতে শুরু করে যে, আওয়ামীলীগই একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের ধারক-বাহক আর বাকি সবাই রাজাকার কিংবা মুজিবের খুনি। শুরু হয় পুরো একটা জাতির অর্জন,  আকাঙ্খা আর গৌরবের সম্পদ 'মুক্তিযুদ্ধের' আওয়ামীলীগীকরণের চুড়ান্ত ধাপ। আর এই আগ্রাসন এতটাই গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিলো যে, মানুষ স্বয়ং একজন মুক্তিযোদ্ধা বা তৎকালীন  প্রত্যক্ষদর্শীর কথাকেও ততটা গুরুত্ব দিতো না যতটা গুরুত্ব ভারত-লীগ প্রকাশনার মিথ্যা ইতিহাসকে দিতো। 

সর্বপরি ২৪ এর আন্দোলনকে এখন আমরা  সফল-ব্যার্থ, ভালো-মন্দ যাই বলিনা কেনো সেটা সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনরায় একটি পতিত স্বৈরাচারের টিকে থাকার সম্বল হতে দিতে পারিনা। এটা পুরো জাতির জন্য একটি অবিস্মরণীয় অর্জন এবং এতে শেখ মুজিব রহমান আর একজন নাম না জানা মুক্তিযোদ্ধার অধিকার সমান। আর যদি সঠিক বিবেচনা করা হয় তাহলে ২৪এর আন্দোলন হলো ১৯৭১ এর রক্ষাকবজ। বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জন এদেশের সকল মানুষের গর্ব। এ অর্জন ৭১ এ হয়েছে নাকি ২৪ এ হয়েছে তা দেখার বিষয় নয় বরং দেখার বিষয় হলো তা কোন অপশক্তির বিরুদ্ধে হয়েছে এবং তা দেশ ও মানুষের জন্য কল্যাণ নাকি অকল্যাণ বয়ে এনেছে।