ছবি : মেয়ের শ্বশুরকে হত্যা চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তাল নাটুয়াপাড়া ও আশপাশের এলাকা
প্রতিবেদক:আবির
কাজিপুর, নাটুয়ারপাড়া, ২৫ জুলাই ২০২৫:
একটি সম্ভাব্য পরিকল্পিত হত্যা চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার, নাটুয়ারপাড়া ও আশপাশের গ্রাম। অভিযোগ উঠেছে, এক ব্যক্তি তার নিজের মেয়ের শ্বশুরকে হত্যার ছক কষে দীর্ঘ ১০ দিন ধরে এক অভিনব নাটক পরিচালনা করে আসছিল।
জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিদিন রাতের বেলা নিজেই তাদের কলা গাছ উপড়ে ফেলে এবং সকালে নাটক করে জানান দিতো—"কারা যেন রাতের আঁধারে কলা গাছ তুলে নিয়ে যাচ্ছে!" এই অভিনয় তিনি আশপাশের দু-একজন প্রতিবেশীকে দেখাতেন যেন ঘটনা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। এদিকে, তিনি গোপনে নজর রাখছিলেন, কখন ভিকটিম (তার মেয়ের শ্বশুর) একা বাড়ি ফিরেন। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভিকটিমের সঙ্গে প্রতিদিন কারো না কারো থাকা।
অবশেষে গত ২৪ জুলাই ২০২৫, রাত ১০:৪০ মিনিটে, ভিকটিমের এক আত্মীয় আবু বকর নাটুয়াপাড়া থেকে এসে কিছুক্ষণ থাকার পর ফিরে যান, এবং সেই রাতে ভিকটিম একা বাড়ি ফেরেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হত্যার ফাঁদ তৈরি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার মূল কারণ হিসেবে যেগুলো উঠে এসেছে:
১. অভিযুক্ত ব্যক্তি মনে করেন, তার মেয়ের বিয়ে ভ্রান্ত ছিল এবং তিনি নিজে ঠকেছেন।
২. বিয়ের একবছরের মধ্যেই ভিকটিম তার মেয়ের স্বামীকে তার বাড়ি থেকে আলাদা থাকতে বলেন।
৩. জামাইয়ের ওষুধের দোকান দেখে বিয়ে দিলেও, বর্তমানে সে গার্মেন্টসে চাকরি করছে—এটাই তার ক্ষোভের কারণ।
৪. অভিযুক্ত তার মেয়েকে ডিভোর্স দিতে চাপ দেন, কিন্তু মেয়ে রাজি নয়।
এছাড়াও আর্থিক লেনদেন নিয়েও উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছে। ভিকটিম এবং তার বড় ছেলে মিলে ছোট ছেলেকে পৃথক করে ৫ লক্ষ টাকা দেন, যা এখন ৬ লক্ষে পৌঁছেছে। এই অর্থ নিজের কাছে রাখতে চায় অভিযুক্ত ব্যক্তি, যা ছোট ভাই মেনে নিতে রাজি নয়।
ছোট ভাই ও তার স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকরি করে শহরে বসবাস করছেন এবং নিজেদের মতো গুছিয়ে নিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই তার মেয়ের শ্বশুরকে হত্যা করে পরিস্থিতি এমন জায়গায় নিয়ে যেতে চায়, যাতে মেয়েকে জোর করে ফিরিয়ে আনা যায় এবং অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব হয়।
বর্তমান অবস্থা:
এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। এলাকার মানুষজন আতঙ্কিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিচার দাবি করছেন।
---
সংবাদদাতা: আবির
নাটুয়াপাড়া, সিরাজগঞ্জ
মতামত