ছবি : শহীদ হলেন আনাস শরীফ
ইসরায়েলী ফায়ারবেল্ট হামলায় প্রাণ হারালেন আনাস শরীফ সহ ৬ জন।
গত রোবিবার (১০ আগষ্ট ) সন্ধ্যায় গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থিত তাঁবুতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় মোট সাতজন নিহত হন।
হামলায় আনাসের সাথে নিহত হন আল-জাজিরার ক্যামেরা অপারেটর ইব্রাহিম জাহের, সংবাদদাতা কুরেইকেহ, মোয়ামেন আলিওয়া ও মোহাম্মদ নওফাল।
তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্বসংবাদ জগতে। সাহসী এই সাংবাদিক সকল প্রকার ভয় ভীতি পিছনে ফেলে গাজায় সংঘটিত ইসরাইলের অত্যাচারের আসল চিত্র এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অসহায় মানুষের সত্যিকারের অবস্থা সবার সামনে তুলে ধরার জন্য ছিলেন সংকল্পবদ্ধ।
শরীফ লিখেন, ‘ বিপদ এবং যন্ত্রণা কি জিনিস তা আমি জানি, বারবার আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে তবু আমি দ্বিধা করিনি। সত্যকে তুলে ধরতে সব সময় নির্ভীক ছিলাম বিন্দুমাত্র বিকৃতি ছাড়াই তুলে ধরেছি প্রতিটি অন্যায়। আমার একমাত্র আশা ছিলো, যাঁরা নীরব থেকেছেন, যাঁরা আমাদের হত্যাকে মেনে নিয়েছেন, আর যাঁরা আমাদের শ্বাস রুদ্ধ করেছেন, আল্লাহ যেন তার সাক্ষী থাকেন ।’ তিনি বলেন ফিলিস্তিনের শিশু ও নারীদের ক্ষতবিক্ষত দেহও যাদের হৃদয়কে নড়াতে পারেনি এবং যারা এই হত্যাযজ্ঞ থামাতে একটু এগিয়ে আসেনি তাদেরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে আল জাজিরা জানায়, মূলত উপত্যকাটির দখল নেয়ার পথকে কন্টক মুক্ত করতেই এ ধরনের কাজ করছে দখলদার ইসরায়েল সেনারা। সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এ হত্যার পর সাংবাদিক আনাস শরীফকে হামাসের একটি সেলের প্রধান বলে দাবি করে ইসরায়েল।
অথচ ইউরোমেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের মোহাম্মদ সোহাদা জানান, শরীফে বিষয়ে এধরনের কোন অভিযোগের সামান্যতম সত্যতাও নেই। মূলত ইসরায়েলী আগ্রাসন এবং অত্যাচারের বাস্তব চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কারনেই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
মতামত