আজ ২৯ মে। প্রবীণ, সাহসী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারের শুভ জন্মদিন। ১৯৬৮ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতার জগতে নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন তিনি। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার জোয়ার বইছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বেড়ে ওঠা গোলাম সারোয়ারের শৈশব কেটেছে এক শিক্ষিত ও আদর্শিক পরিবেশে। তাঁর বাবা-মা ছিলেন শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা তাঁর জীবনবোধ ও মানবিক চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ছোটবেলা থেকেই সত্য ও ন্যায়ের প্রতি দৃঢ় অবস্থান তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
১৯৯৬ সালে দেশের জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক ‘বাংলা বাজার পত্রিকা’র মাধ্যমে সাংবাদিকতায় তাঁর পথচলা শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দক্ষতা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে অর্জন করেছেন ব্যাপক সুনাম ও শ্রদ্ধা। সাংবাদিকতাকে তিনি কখনো পেশা হিসেবে নয়, বরং মানুষের অধিকার ও সত্য প্রতিষ্ঠার একটি দায়বদ্ধ দায়িত্ব হিসেবে দেখেছেন।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার এক নির্ভীক কারিগর
বাংলাদেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় যাঁদের অবদান অনস্বীকার্য, তাঁদের অন্যতম ছিলেন প্রয়াত সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন। ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর ইনভেস্টিগেশন সেলের প্রধান হিসেবে তিনি দেশের প্রথম সারির অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৯৭ সাল থেকে গোলাম সারোয়ারের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা ২০২৫ সালে রিমনের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অটুট ছিল।
সাইদুর রহমান রিমনের সম্পাদনায় গোলাম সারোয়ার ‘দৈনিক দেশবাংলা’ পত্রিকায় কান্ট্রি এডিটর হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ড. আবদুল্লাহ আল মামুন সম্পাদিত ‘দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ’ পত্রিকার কান্ট্রি এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর লেখনী ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বরাবরই সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে।
মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত একজন সাদা মনের মানুষ
সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারের সবচেয়ে বড় পরিচয় শুধু একজন দক্ষ সাংবাদিক নন, বরং তিনি একজন সাদা মনের মানুষ। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বিনয়, সৌজন্যবোধ ও সদাহাস্যোজ্জ্বল আচরণ সহজেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পথচলায় তিনি নতুন প্রজন্মের অনেক সাংবাদিককে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর সহকর্মীরা বলেন, তিনি কখনো ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেননি; বরং সত্য প্রকাশ ও মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
বস্তুবাদী জীবনের হিসাব-নিকাশের বাইরে থেকেও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও সম্মান অর্জনে তিনি সফল হয়েছেন। সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর নিরলস অবদান কাপাসিয়ার মানুষের কাছে তাঁকে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
কাপাসিয়ার সাংবাদিকতায় অনন্য অবদান
বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কাপাসিয়া শাখার বিভিন্ন কার্যক্রমে গোলাম সারোয়ারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। স্থানীয় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করা, তরুণ সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান এবং সমাজের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখার মাধ্যমে তিনি কাপাসিয়ার সাংবাদিকতায় এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন।
এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁকে আরও শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
জন্মদিনে শুভকামনা
আজকের এই বিশেষ দিনে সাহসী ও মানবিক এই সাংবাদিকের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। সততা, সাহস ও দায়িত্ববোধের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রার্থনা করি, মহান আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও কর্মময় জীবন দান করুন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাঁর বলিষ্ঠ কলম আরও দীর্ঘদিন সমাজের আয়না হয়ে থাকুক।
শুভ জন্মদিন, সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার। মানুষের হৃদয়ে আপনার অবস্থান আরও গভীর হোক।
মতামত