ছবি : দিরাইয়ে ইউপি সদস্য ওয়াদুদ ও ফয়সালের ত্রাসের রাজত্ব:
প্রকাশিত : ১০ জুন ২০২৬, বিকাল ৩:৩৬
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মকসদ পুর গ্রামের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গডফাদার বর্তমান ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী ও ফয়সল চৌধুরী'র তান্ডবে অতিষ্ঠ মকসদপুর গ্রামবাসী। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওয়াদুদ চৌধুরী ফয়সল চৌধুরী দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন। পান থেকে চুন খসলেই শুরু হয় তাদের নির্যাতন। বিগত পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এলাকার সকল অপকর্মেই ছিলো তাদের কালো হাত। তাদের নিজস্ব বাহীনি দ্বারা এলাকার নিরীহ মানুষের উপর চলতো অমানবিক নির্যাতন। আওয়ামীলীগের দিরাই শাল্লা'র এমপি জয়া সেনগুপ্তার আশীর্বাদ পূষ্ট ছিলেন ওয়াদুদ ও ফয়সল। মকসদপুর গ্রামসহ যত ধরনের গর্হিত কাজ সংঘটিত হয় তাদের মাধ্যমেই ঘটতো সকল ধরনের অপকর্ম। পতিত আওয়ামী সরকারের একজন আশীর্বাদ পুষ্ট সক্রিয় কর্মী ওয়াদুদ চৌধুরী'র তার প্রভাবে উনার পুত্রের দ্বারা দিরাই-শাল্লায় মোটরসাইকেল চুরি সহ মাদক ব্যবসার বিশাল এক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন ওয়াদুদ পুত্র রৌশন চৌধুরী। মকসদপুর গ্রামের আরেক দাঙ্গাবাজ নুরুজ্জামানের পুত্র মামুন রশীদকে দিয়ে ওয়াদুদ পুত্র গঠন করেছিলেন এক সন্ত্রাসী বাহীনি। আওয়ামী সরকারের সাইন বোর্ড ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের উপর অমানবিক নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, মাদক, কারবারসহ সব কিছু হতো তাদের মাধ্যমে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুললেই শুরু হতো বিভিন্ন ধরনের হুমকি দমকী। রোশন ও মামুন প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করে, দিরাই মদনপুর রোডে অনেক মানুষের সাথে মাতলামির ঘটনা ও এলাকার মানুষের সাথে করেছে।
চলিত বৎসরে মকসদপুর গ্রামে দুই দফা হামলা সংঘটিত হয়েছে। প্রতিটি যুদ্বেই নেতৃত্ব দিয়েছেন ওয়াদুদ মেম্বার ও ফয়সাল । গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন প্রভাবশালী মেম্বার ওয়াদুদের হুকুমে সন্ত্রাসী নুরুজ্জামান ও তার বাহিনী দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে অসহায় আকিল ও তার পরিবারের উপর প্রাণে হত্যার উদ্দ্যেশ হামলা করে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গত ৪-ই মে ২০২৬ রাত সাড়ে ৯টার দিকে জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় একদল সন্ত্রাসী আব্দুল ওয়াদুদের হুকুমে রৌশন ' আলমগীর ' কায়সার,কয়েস, মামুন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাসার ফেরার পথে আজাদ রেজা চৌধুরী পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হামলা করে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, পাইপ ও কাঠের রুল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে আজাদ রেজা চৌধুরীর মাথায় গুরুতর জখম, বাম হাত ও বাম পায়ে একাধিক স্থানে হাড় ভেঙে যায়। তিনি তাদের অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনি বর্তমানে ওসামানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় সিলেটের জালালাবাদ এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করলেও এখন পর্যন্ত আসামীদের গ্রেফতার করতে পারি নি পুলিশ। আজাদ রেজা চৌধুরী প্রশাসনের এই স্বজন প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ওয়াদুদ ও ফয়সালের বিরুদ্ধে প্রাণের ভয়ে মুখ খুলতে কেউ রাজি নন। তারা যদি সাংবাদিকদের কাছে কিছু বলেন, রাতে ওয়াদুদ ও ফয়সালের লোকেরা তুলে নিয়ে নির্যাতন করতে পারেন৷ মকসদপুর গ্রামের অসহায় আকিলের পরিবারসহ কয়েকটি পরিবার জানান, হামলা চলাকালে তাদের বসত ঘর ও ফ্রীজ বিদ্যুতের মিটার সহ আধা বড়ি স্বর্ন ও দেড় লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান ওয়াদুদ পুত্র রৌশন চৌধুরীর লাতিত গুন্ডা, আলমগীর, কয়সর, কায়েস, মামুন।
এই অসহায় তিনটি পরিবারের অবস্থা একেবারেই নাজুক। খোলা আকাশের নিচে শিশুদের নিয়ে অবস্থান করছেন তারা। তাদের এই ক্ষতির কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পরেন এই পরিবারের এক মহিলা সদস্যা । তিনি বলেন, আমাদের এলাকার ওয়াদুদ ও ফয়সাল চৌধুরী'র এবং নুরুজ্জামানের লোকজনের কারণে আমরা অতিষ্ঠ। তারা নিজের অধিপত্যে বিস্তার করতে গিয়ে আজাদ রেজা চৌধুরী'র লোকজনের উপর সব সময় লেগেই থাকেন। এলাকায় যত ধরণের অনিয়ম ও মারামারি হয় সব কিছুতেই ওয়াদুদ মেম্বার ও ফয়সল নেতৃত্বে হয়। আজাদ রেজা চৌধুরী ও তার ভাই ভাতিজা ওয়াদুদ - ফয়সালের অন্যায় অসংঙ্গতি বিরুদ্ধে কথা বললেই তারা দা' রামদা ' সুলফি হাতে নিয়ে যুদ্বে নেমে পড়েন। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মকসদপুর শাহী ঈদগায় মাটি কাঠার সরকারি বরাদ্দের টাকা, মাটি না কাটিয়ে আব্দুল ওয়াদুদ আত্মসাৎ করে নুরুজ্জামানের কাছে টাকা দিয়ে দেন। এ নিয়ে এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করলে ওয়াদুদ মেম্বার মানুষকে মারার জন্য নুরুজ্জামান কে ঢালাওভাবে হুকুম দেন। মকসদপুর গ্রামের সচেতন মহলের দাবী এ ঈদগাহ মাটি ভরাটের কাজে দিরাই উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় ' ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াদুদের কাছে নিজের ভাইয়ের স্ত্রী ও নিরাপদ নয়। তিনি মেম্বার হওয়ার সুবাদে এলাকায় নারী কেলেংকারী করতে করতে নিজের ভাইয়ের স্ত্রী'ও রেহাই পায় নি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন যুবক জানিয়েছেন উনার ভাই এমদাদ চৌধুরী দীর্ঘদিন জার্মান প্রবাসে থাকায় উনার স্ত্রী'র সাথে আব্দুল ওয়াদুদের গড়ে উঠে গোপন সম্পর্ক। তার চরিত্রের ভয়াল থাবা থেকে এক চুল ও রেহাই পায়নি জার্মান প্রবাসী এমদাদের স্ত্রী। এ নিয়ে তাদের পরিবারের মধ্যে অনেক বিচার সালিশ সংঘটিত হয়েছে। অবশেষে লোক লজ্জার চিন্তা করে ৫ বছরের সংসার জীবনের সমাপ্তি করেন এমদাদ চৌধুরী। ওয়াদুদের এই ন্যাক্কারজনক জনক ব্যবহারের কারণে উনার ভাই জার্মান প্রবাসী এমদাদের সাথে সম্পর্কের ও টানাপোড়েন। এব্যাপারে আব্দুল ওয়াদুদের সাথে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক শুনে তিনি মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন। এব্যাপারে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন যাবত থেকে মকসদপুর গ্রামে ঝামেলা চলতেছে। আমরা উভয়ের শান্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছি । সব সময় অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ সজাগ আছে।
বার্তা প্রেরক :-
নাইম তালুকদার
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
০৯/০৬/২০২৬ খ্রী.....
মতামত