সারাদেশ

মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন সোহাগ: দুই শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগ।

প্রিন্ট
মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন সোহাগ: দুই শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগ।

ছবি : মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন সোহাগ: দুই শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগ।


প্রকাশিত : ২৫ মে ২০২৬, রাত ১১:২৬

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের বান্ডা গ্রামে মাদকের ব্যবসা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের এক ভুতুড়ে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন সোহাগ মিয়া নামে এক ব্যক্তি। দীর্ঘ দিন ধরে মল্লিকপুর বাজারে ‘চা-সিঙাড়া’র দোকানের আড়ালে ইয়াবা-গাজা ব্যবসা এবং রাতের অন্ধকারে জুয়ার আসর বসিয়ে পুরো এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছেন তিনি। সোহাগের উগ্র ও বেপরোয়া আচরণে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করার সাহস পর্যন্ত পান না। ​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, সোহাগের অপরাধ কর্মকাণ্ডের তালিকা দীর্ঘ। মাত্র তিন-চার মাস আগে গ্রামের ওয়াজ মাহফিলের দিন এক শিশুকে নির্যাতনের চেষ্টা করেন তিনি। সে সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেও প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। এরপর একই কায়দায় মল্লিকপুর মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী টিফিন আনতে গেলে সোহাগের দোকানে নির্যাতনের শিকার হওয়ার উপক্রম হয়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সেবার কোনোমতে পালিয়ে বাঁচেন ওই শিক্ষার্থী। ​ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, লোকলজ্জা ও সোহাগের হুমকির মুখে তারা আইনের আশ্রয় নিতেও ভয় পাচ্ছেন। অপরাধের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে এলাকাবাসী তার কঠোর বিচারের দাবি তোলেন। এর প্রেক্ষিতে সোহাগ কিছুদিন এলাকা ছাড়া থাকলেও সম্প্রতি ফিরে এসে রহস্যজনকভাবে পার পেয়ে যান। স্থানীয় কিছু ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় তথাকথিত গ্রাম্য সালিশের নামে এই গুরুতর অপরাধকে হালকাভাবে দেখা হয়েছে। ​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ধর্ষণের মতো চেষ্টার মতো অপরাধকে সালিশি সভার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। যাকে এলাকাছাড়া করার কথা ছিল, সেই অপরাধী এখন বীরদর্পে আগের মতোই দোকানের আড়ালে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সালিশের আড়ালে কারা সোহাগকে আশ্রয় দিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।’ ​আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো ফৌজদারি অপরাধ গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য নয়। এটি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যারা এই অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছেন, তারাও আইনের আওতায় আসার দাবি রাখেন। ​এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সোহাগের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত যথাযথ আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এলাকাটি আরও বড় কোনো অঘটন বা অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।