জমি বিরোধে সৎ মা ও ভাইকে খুন করে পুকুরে পুঁতে রাখা জোড়া খুনের ৩ বছর পর কঙ্কাল উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার,মোঃ লিটন নোয়াখালী:
"ভাই বড় ধন রক্তের বাঁধন, যদিও খুন হয় জায়গা জমির কারণ"— এই প্রবাদের নিষ্ঠুর বাস্তবতা দেখল নোয়াখালীবাসী। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন রক্তের সম্পর্কের তোয়াক্কা না করে সৎ মা ও সৎ ভাইকে নৃশংসভাবে খুন করে লাশ গুম করার দীর্ঘ ৩ বছর পর অবশেষে উন্মোচিত হলো এক রোমহর্ষক জোড়া খুনের রহস্য।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার অন্তর্ভুক্ত ১নং জয়াগ ইউনিয়নের শেষ সীমানা এবং চাটখিল থানার মলংমুড়ী গ্রামের পাশ্ববর্তী কাচারি বাজারের পূর্ব পাশে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। দীর্ঘ তদন্তের পর সিআইডি এবং ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পুকুরের তলদেশে মাটিচাপা দিয়ে রাখা ভুক্তভোগীদের লাশের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নৃশংসতা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ঘাতক পরিবারের সাথে জায়গা-জমি নিয়ে সৎ মা এবং সৎ ভাইয়ের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই আনুমানিক তিন বছর আগে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে তাদের হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ আড়াল করতে এবং আইনি চোখ ফাঁকি দিতে ঘাতকরা কাচারি বাজারের পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি পুকুরকে বেছে নেয়। শুষ্ক মৌসুমে বা পানি সেচে পুকুরের তলদেশে গভীর গর্ত খুঁড়ে মা ও ছেলের লাশ মাটিচাপা দিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কেউ কখনো টের না পায়।
যেভাবে উদঘাটিত হলো রহস্য
দীর্ঘ তিন বছর ধরে ভুক্তভোগীরা নিখোঁজ থাকার পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জেলা ডিবি পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এবং নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে শুরু করে।
অবশেষে সিআইডি ও ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুরের পানি সেচে তলদেশে খননকাজ চালায়। দীর্ঘ তল্লাশির পর সেখান থেকে নিখোঁজ মা ও ছেলের লাশের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
এলাকায় চাঞ্চল্য
দীর্ঘ তিন বছর পর এই রোমহর্ষক জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় পুরো সোনাইমুড়ী ও চাটখিল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় কাচারি বাজারসহ আশপাশের এলাকা।
এ বিষয়ে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, "সম্পত্তির লোভে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। আসামিরা নিখোঁজ নাটক সাজিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কঙ্কালগুলো ডিএনএ টেস্টসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
মতামত