ফুটবল

কেন চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি বিশ্বকাপ খেলতে ব্যর্থ?

প্রিন্ট
কেন চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি বিশ্বকাপ খেলতে ব্যর্থ?

ছবি : কেন চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি বিশ্বকাপ খেলতে ব্যর্থ?


প্রকাশিত : ২০ মে ২০২৬, সকাল ১১:৪৪

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল দল Italy national football team আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চের বাইরে। ২০২৬ FIFA World Cup-এ জায়গা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মিস করছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর যে দলটি ইউরোপীয় ফুটবলে আধিপত্যের প্রতীক ছিল, মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে সেই ইতালিই এখন পরিণত হয়েছে হতাশা, ব্যর্থতা ও সাংগঠনিক সংকটের প্রতীকে। এটি কেবল কয়েকটি ম্যাচে হারার গল্প নয়; বরং দীর্ঘদিনের ভুল পরিকল্পনা, দুর্বল অবকাঠামো, প্রতিভা বিকাশে ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার সম্মিলিত ব্যর্থতা। ইতালিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে তরুণ খেলোয়াড় তৈরির কাঠামোয়। দেশটির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলো ক্রমেই বিদেশি খেলোয়াড়নির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় তরুণ ফুটবলাররা নিয়মিত খেলার সুযোগ হারাচ্ছে। বিশেষ করে সিরি আ-র অনেক ক্লাব তাৎক্ষণিক সাফল্যের জন্য বিদেশি খেলোয়াড় কিনলেও দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ গঠনে কার্যকর বিনিয়োগ করেনি। এর ফলে জাতীয় দলে মানসম্পন্ন স্ট্রাইকার, সৃজনশীল মিডফিল্ডার ও দ্রুতগতির উইঙ্গারের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া ইতালির সাম্প্রতিক ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ইতালির ফুটবল দর্শনও সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। আধুনিক ফুটবলে যেখানে গতি, প্রেসিং ও আক্রমণাত্মক কৌশল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, সেখানে ইতালি দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাত্মক কৌশলের ওপর নির্ভরশীল থেকেছে। ফলে তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষেও ইতালিকে ভুগতে হয়েছে। ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে Norway national football team-এর মতো উদীয়মান দলগুলোর কাছে পয়েন্ট হারানো সেই দুর্বলতারই প্রতিফলন। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফুটবলের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে না পারাই ইতালির বড় ব্যর্থতা। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও ফুটবল প্রশাসনের অদক্ষতাকেও দায়ী করছেন অনেকে। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের নীতিনির্ধারণে দীর্ঘদিন ধরেই স্বচ্ছতার অভাব ও ক্লাব রাজনীতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোচ পরিবর্তন, খেলোয়াড় নির্বাচন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ধারাবাহিকতার অভাব জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেক সাবেক খেলোয়াড় অভিযোগ করেছেন, ইতালির ফুটবলে এখন আর আগের মতো সুসংগঠিত পরিকল্পনা নেই; বরং সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে তাৎক্ষণিক চাপ সামলানোর জন্য। মনস্তাত্ত্বিক চাপও ইতালির পতনের বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করার পর ২০২৬ বাছাইপর্বে দলটির ওপর ছিল ব্যাপক প্রত্যাশার চাপ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে সেই চাপই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গোলের সুযোগ নষ্ট করা, শেষ মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি পুরো অভিযানে স্পষ্ট ছিল। ফুটবল পর্যবেক্ষকদের মতে, একসময় যে ইতালি চাপের ম্যাচে ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ ছিল, এখন সেই দলই বড় ম্যাচে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। ফুটবল বিশ্বে ইতালির অনুপস্থিতি শুধু একটি দলের ব্যর্থতা নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ফুটবল সংস্কৃতির সংকটের প্রতিচ্ছবি। ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের না থাকা কোটি সমর্থকের জন্য যেমন হতাশার, তেমনি বিশ্ব ফুটবলের জন্যও বড় ক্ষতি। এখন প্রশ্ন উঠছে—চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কি আবার নিজেদের পুনর্গঠন করতে পারবে, নাকি ইতালির ফুটবল আরও গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?