সারাদেশ

কোম্পানীগঞ্জে ব্যবসায়ীর দোকান দখল ও ভাড়া না দিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ

প্রিন্ট
কোম্পানীগঞ্জে ব্যবসায়ীর দোকান দখল ও ভাড়া না দিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ

প্রকাশিত : ১৮ মে ২০২৬, সকাল ৭:০৯

কোম্পানীগঞ্জে ব্যবসায়ীর দোকান দখল ও ভাড়া না দিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারে এক ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন দোকান ঘর দখল করে রাখা, দীর্ঘ ৮ মাসের ভাড়া পরিশোধ না করে টালবাহানা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মো. কামরুল হাসান হিরো (৪৩) নামে এক ফার্মাসিস ব্যবসায়ী ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ও মানবাধিকার কর্মী আবদুল আউয়াল। ​লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে আবদুল আউয়ালের মাতা বসুরহাট বাজারস্থ পুরান থানা রোডে তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন একটি টিনশেড দোকান ঘর (বর্তমানে লাজ ফার্মা) বিবাদী কামরুল হাসানের কাছে ভাড়া দেন। বর্তমানে নিজেদের ব্যবসার প্রয়োজনে মালিকপক্ষ দোকানটি ফেরত চাইলে বিবাদী কালক্ষেপণ শুরু করেন। গত ১ বছর ৩ মাস আগে ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও কামরুল হাসান ঘরটি ছাড়ছেন না। উল্টো গত ৮ মাসের দোকান ভাড়া বকেয়া রেখে মালিকপক্ষকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। ​ভুক্তভোগী আবদুল আউয়াল অভিযোগ করেন, তিনি নিজের মালিকানাধীন দোকান পরিদর্শনে গেলে প্রায়ই দেখতে পান বিবাদী কামরুল হাসান রাত এগারোটার পর দোকানের ভেতর অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন লোক নিয়ে প্রতিদিন জুয়া ও বিভিন্ন অসামাজিক খেলায় লিপ্ত থাকেন। ​ব্যবসায়ী সমিতি ও পুলিশের মধ্যস্থতা: ভুক্তভোগী আবদুল আউয়াল জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি প্রথমে বসুরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলেন। বাজার সমিতি একাধিকবার বৈঠক করে বিবাদীকে দোকান ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করেন। ​পরবর্তীতে কোম্পানীগঞ্জ থানায় এই বিষয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিবাদী কামরুল হাসান লিখিত অঙ্গীকার করেছিলেন যে, ১০ মে’র মধ্যে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলে তিনি দোকানটি ছেড়ে দেবেন। চুক্তি মোতাবেক বিবাদী ভাড়া দিতে না পারায় মালিকপক্ষ দোকানে দুটি তালা লাগিয়ে দেয়। কিন্তু কামরুল হাসান পরবর্তীতে সেই তালা ভেঙে জোরপূর্বক পুনরায় দোকানে ঢুকে পড়েন এবং জুয়া খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন । নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি বকেয়া ভাড়া দেননি এবং দোকানও ছাড়ছেন না। উল্টো মালিকপক্ষকে কোর্টের মামলার ভয় দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। ​প্রাণনাশের হুমকি ও মানহানির চেষ্টা: অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর ৩টার দিকে ভাড়াটিয়া কামরুল হাসান হিরোর কাছে বকেয়া ভাড়া ও দোকান হস্তান্তরের বিষয়ে কথা বলতে গেলে সে ভুক্তভোগী আবদুল আউয়ালকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং বিভিন্ন আইনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে ভাড়াটিয়া কামরুল হাসান বিভিন্ন লোকের কাছে ভুক্তভোগীর নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানহানি ও হ্যারেজমেন্ট করার চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে। ​সাক্ষীদের বক্তব্য: থানা বৈঠকে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন সেলিম, ফয়েজ উল্লাহ ওবায়দুল হক রাপেল, পারভেজ, সামছুল আলম, লোকমান হোসেন সুমন, ফারুক ও সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিবাদীর এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং লিখিত অঙ্গীকার ভঙ্গের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ​আইনি পদক্ষেপ: বিবাদী কামরুল হাসান গায়ের জোরে দোকানটি দখল করে রাখার চেষ্টা করায় এবং বিভিন্ন বহিরাগত লোক দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করায়, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন ভুক্তভোগী আবদুল আউয়াল। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও তদন্ত কর্মকর্তা বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং বেদখল হওয়া দোকান ঘরটি উদ্ধারে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।