সারাদেশ

ঢাকায় "মিডিয়া এন্ড এন্ট্রাপ্রেনিয়র অ্যাওয়ার্ড-২০২৬" অনুষ্ঠিত: ময়মনসিংহের বিল্লাল হোসেন মানিক বর্ষসেরা ক্রাইম রিপোর্টার

প্রিন্ট
ঢাকায় "মিডিয়া এন্ড এন্ট্রাপ্রেনিয়র অ্যাওয়ার্ড-২০২৬" অনুষ্ঠিত: ময়মনসিংহের বিল্লাল হোসেন মানিক বর্ষসেরা ক্রাইম রিপোর্টার

ছবি : ঢাকায় "মিডিয়া এন্ড এন্ট্রাপ্রেনিয়র অ্যাওয়ার্ড-২০২৬" অনুষ্ঠিত: ময়মনসিংহের বিল্লাল হোসেন মানিক বর্ষসেরা ক্রাইম রিপোর্টার


প্রকাশিত : ১৭ মে ২০২৬, দুপুর ১:১৪

রাজধানী ঢাকায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে “মিডিয়া এন্ড এন্ট্রাপ্রেনিয়র অ্যাওয়ার্ড-২০২৬”। মানবাধিকার প্রতিদিন ও স্টার বাংলাদেশ মিডিয়ার যৌথ আয়োজনে বিজয়নগরস্থ পল্টন টাওয়ারের ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে এই জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন খাতে অনন্য অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। ​পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মূল আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গান, মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা এবং আকর্ষণীয় র‍্যাম্প শো অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে, যা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। ​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো: জয়নুল আবেদীন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিসিআই’র নির্বাহী পরিচালক ফখরুল ফেরদৌস। ​এবারের আয়োজনের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন ময়মনসিংহের কৃতি সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন মানিক। সাহসী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে “বর্ষসেরা ক্রাইম রিপোর্টার অফ ময়মনসিংহ” সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে স্টার বাংলাদেশ মিডিয়ার পক্ষ থেকে তার হাতে এই সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। ​বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সিনিয়র রিপোর্টার জিহাদুর রহমান, ই-ক্রয় ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.কে.এম. মুসফাকুল আলম এবং প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক জ্যাম্বস কাজল। পুরো অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সঞ্চালনা করেন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত উপস্থাপক ও আবৃতিকার সবুজ রায়। এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এই আয়োজনে অংশ নেন। ​বিভিন্ন খাতে সম্মাননা পেলেন যারা: সমাজ, ব্যবসা ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার জন্য দেশের বেশ কয়েকজন উদীয়মান উদ্যোক্তা, সংগঠক ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্বকে এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়। ​টেলিকম খাত: টেলিকম খাতে সফল ব্যবসায়িক অবদান ও রাইজ সিম কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পেয়েছেন ভার্টেক্স টেলিকম সলিউশনস-এর সিইও আব্দুর রহমান (আবির)। ​অনলাইন জুয়েলারি: অনলাইন জুয়েলারি ব্যবসায় সাফল্যের জন্য সম্মাননা পান ইনোভিবেল (প্রাইভেট) লিমিটেডের সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা ডা. সাবরিনা তিশা। তার পরিচালিত “সোনার হরিণ” পেজটি ইতোমধ্যে দারুণ পরিচিতি লাভ করেছে। ​সংস্কৃতি ও প্রশিক্ষণ: দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের মাঝে সৃজনশীলতা বিকাশের কাজ করায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পেয়েছেন সাজকমক শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রশিক্ষক আল আমিন হোসাইন ইস্রাফিল। ​সামাজিক ও নারী উদ্যোক্তা: সামাজিক সংগঠন ও নারী উদ্যোক্তা খাতে অবদানের জন্য সম্মানিত হয়েছেন কণ্ঠস্বর ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সম্পাদক খাদিজা আক্তার জেবা, যার পরিচালিত “জামানস কিচেন” অনলাইন ব্যবসা গ্রাহকদের মাঝে আস্থা অর্জন করেছে। ​ই-কমার্স: ই-কমার্স খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ই-ক্রয় ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.কে.এম. মুসফাকুল আলমকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। ​দেশীয় পণ্য ও অপারেশন: দেশীয় পণ্যের উন্নয়ন ও অপারেশন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার জন্য সম্মাননা পান “দেশিও”-এর হেড অব অপারেশনস মোঃ আরেফিন হক। ​ডিজিটাল মার্কেটিং ও আইটি: আইটি ও মার্কেটিং এজেন্সির মাধ্যমে তরুণদের অনুপ্রাণিত করায় ডিজিটাল মার্কেটিং ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পান লেভিক্স আইটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মাহেদি হোসেন। ​ব্যাংকিং খাত: ওয়ান ব্যাংক পিএলসি’র আল নূর ইসলামী ব্যাংকিং বিভাগের ট্রেইনি সেলস অফিসার হিসেবে কর্মরত সাংবাদিক পারভিন আক্তার ব্যাংকিং খাতে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা লাভ করেন। ​সংগীত ও বিনোদন: রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ডিজে এক্সপার্ট ও মডেল হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়া ডিজে নাইরা সংগীত ও বিনোদন অঙ্গনে ৩য় ক্যাটাগরিতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট লাভ করেন। বনশ্রী, ঢাকাকে কেন্দ্র করে তার সৃজনশীল কার্যক্রম তরুণদের মাঝে বেশ প্রশংসিত। ​আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে যারা নীরবে-নিভৃতে অবদান রেখে চলেছেন, তাদের সম্মাননার মাধ্যমে উৎসাহিত করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বেশি গুণীজনকে অনুপ্রাণিত করবে এবং একটি ইতিবাচক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।