ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ-এ শাহরিয়ার ফয়সাল নামে এক মাদকসেবীকে আটকের পর তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এসআই জালাল উদ্দিনকে ক্লোজ করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করা হয়। যদিও ঘটনাটি বুধবার (১৩ মে) এলাকায় প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সৈয়দভাকুরী গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীরের ছেলে শাহরিয়ার ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য তিনি পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক সেবনের অভিযোগে তিনি একাধিকবার গ্রেফতারও হন।
সম্প্রতি মাদক সেবনের দায়ে ফয়সালকে আটক করেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই জালাল উদ্দিন। তবে মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলেও ভিন্ন ধারায় তাকে আদালতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু-কে অবহিত করলে তিনি দ্রুত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।
ফয়সালের মা দিপালী খানম অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী আজিজুল হক রিটু কৌশলে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এসআই জালাল উদ্দিনকে দুই লাখ টাকা দেন। পরে ওই টাকা আদায়ের জন্য এসআই জালাল একাধিকবার তাদের বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার পুত্রবধূকে গ্রেফতারের হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে তিনি বিষয়টি এমপিকে জানান।
ফয়সালের স্ত্রী নিলীমাও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, এসআই জালাল উদ্দিন কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে বাড়িতে এসে বারবার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেন।
অন্যদিকে আজিজুল হক রিটু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফয়সাল তার কাছ থেকে জমি বিক্রির বায়না হিসেবে দুই লাখ টাকা নিয়েও জমি লিখে দেননি। এজন্য তিনি থানায় অভিযোগ করেছিলেন।
এসআই জালাল উদ্দিন টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য তিনি দুই পক্ষকে থানায় ডেকেছিলেন মাত্র।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ-এর ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল আজম জানান, অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব এসআই জালালকে দেওয়া হয়েছিল। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়ে তাকে কেউ অবগত করেননি। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করা হয়েছে।
মতামত